রপ্তানি পণ্য খালাসে ব্যাংক গ্যারান্টি-সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। একইসঙ্গে অনিয়মে জড়িত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরো খাতকে যেন দায়ী করা না হয়, সে বিষয়েও জোর দিয়েছেন তারা।
জাতীয় স্বার্থে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রধান তিন সংগঠন—বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMEA)—ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
প্রজ্ঞাপন স্থগিতের দাবি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর প্রজ্ঞাপনটি জারি করে। তবে বিষয়টি জানার পর বাণিজ্যমন্ত্রী প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করার জন্য এনবিআরকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রজ্ঞাপনে থাকা ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের তৈরি পোশাক কারখানার জন্য বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত ও প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
যৌথ বৈঠকের আহ্বানচলমান পরিস্থিতি সমাধানে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বৈঠকে BGMEA, BKMEA, BTMEA, এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, একটি নির্দিষ্ট খাতকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে পোশাক ও বস্ত্র খাতের অন্য কোনো অংশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দেশের রপ্তানি আয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
তৈরি পোশাক খাতে অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
তাদের বক্তব্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সদস্যপদ ও লাইসেন্স বাতিল, ব্যাংক হিসাব স্থগিতসহ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট অপরাধীদের চিহ্নিত না করে পুরো পোশাক খাতের ওপর দায় চাপানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ
তিন সংগঠনব্যবসায়ী নেতারা বলেন, BGMEA, BKMEA ও BTMEA আলাদা সংগঠন হলেও দেশের অর্থনীতি, রপ্তানি আয় এবং পোশাক ও বস্ত্র খাতের সামগ্রিক স্বার্থে তাদের অবস্থান অভিন্ন।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাংক গ্যারান্টি-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ঘিরে তৈরি সংকটের একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে।রিফাত আহসানক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর, টেক্সটাইল মিররজামালপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট (জেটিআই)


