দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরও পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক করতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। ‘সার্কুলার অর্থনীতি’ বা সম্পদ সাশ্রয়ী ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। এতে সবুজ প্রযুক্তির প্রসারের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা নতুন গতি পাবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষে দেশটির জলবায়ু ও সবুজ প্রবৃদ্ধিবিষয়ক মন্ত্রী স্টিন্টিয়ে ভ্যান ভেল্ডহোভেন এতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমানের পোশাক শিল্পের সাপ্লাই চেইনে টিকিয়ে থাকতে হলে সার্কুলার পদ্ধতি গ্রহণ এখন সময়ের বড় দাবি। বাংলাদেশ খুব শিগগিরই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটাবে। এ বাস্তবতায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে শিল্পের পরিবেশবান্ধব রূপান্তর, সবুজ বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে এই সমঝোতা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী স্টিন্টিয়ে ভ্যান ভেল্ডহোভেন বলেন, সার্কুলার অর্থনীতি তৈরি কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়, এজন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারত্ব প্রয়োজন। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এই সমঝোতার ফলে পোশাক খাতে বর্জ্য হ্রাস, কাঁচামালের দক্ষ ব্যবহার, পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল তৈরি এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাড়াবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

