একদিকে ব্যস্ত শ্রমিকেরা, অন্যদিকে উৎপাদনের হিসাব নিয়ে চলছে নানা ব্যস্ততা। এই কর্মচঞ্চল পরিবেশ বাংলাদেশের শিল্পায়নের একটি পরিচিত ছবি। আর এই ছবির পেছনে আছেন অসংখ্য উদ্যোক্তা। তাঁদের কেউ গড়ে তুলছেন শিল্প, কেউ তৈরি করছেন কর্মসংস্থান, আবার কেউ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছেন। ড. মো. আব্দুল আহাদ আকিল তাঁদেরই একজন।

তাঁর উদ্যোক্তা-জীবনের শুরুটা হয়েছিল টেক্সটাইল শিল্পকে ঘিরে। সময়ের সঙ্গে সেই পরিসর বড় হয়েছে। সুতা উৎপাদন থেকে ফ্যাশন, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, গৃহস্থালি পণ্য, ক্রীড়া ও অন্যান্য বিনিয়োগে ছড়িয়েছে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা।

ড. আকিলের উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল শৈশবেই। পারিবারিক ব্যবসার পরিবেশ সেই আগ্রহকে আরও শক্ত ভিত্তি দেয়। তাঁর বাবা মো. আব্দুল বাতেন টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত একজন ব্যবসায়ী এবং তাঁর মা বেগম হোসনেয়ারাও উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। এই পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকেই শিল্প ও ব্যবসার সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক পরিচয়। শিক্ষাজীবনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করেন তিনি। পরে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল মার্কেটিংয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টেও ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (EIASM) থেকে পিএইচডি ( ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন )ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

২০০৮ সালে বাবার ব্যবসায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হন ড. আকিল। করতোয়া স্পিনিং মিলসের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে তিনি হাতে-কলমে শিখতে থাকেন স্পিনিং শিল্পের নানা বিষয়। বাবার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর জন্য বড় একটি সহায়তা। অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্পটির কারিগরি ও ব্যবসায়িক দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। একদিকে বইয়ের জ্ঞান, অন্যদিকে বাস্তব অভিজ্ঞতা। এই দুইয়ের সমন্বয় তাঁর উদ্যোক্তা-জীবনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ড. আকিলের ব্যবসায়িক পরিচয়ের মূল জায়গা টেক্সটাইল শিল্প। তাঁর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিসরও বেশ বড়।
গাজীপুরে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত করতোয়া স্পিনিং মিলস লিমিটেডে তিনি পরিচালক। সেখানে কাজ করেন প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মী। নারায়ণগঞ্জের এনায়েতপুর স্পিনিং মিলস লিমিটেডেও রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর তিনি। কর্মী ও শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২০০। একই শহরে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত তারা স্পিনিং মিলস লিমিটেডেও তিনি নির্বাহী পরিচালক।

সবুজ শিল্পে নতুন ভাবনা

টেক্সটাইল শিল্পের পরিচিত পথেই থেমে থাকেননি ড. আকিল। শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে গিয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের দিকেও এগিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় করতোয়া গ্রিন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও পরিচালক ড. আকিল। সবুজ শিল্পায়নের এই উদ্যোগ তাঁর ব্যবসায়িক চিন্তার আরেকটি দিক সামনে আনে। প্রযুক্তির ব্যবহার ও টেকসই উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়ে শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর ভবিষ্যৎ ভাবনার অংশ।

সুতা থেকে ফ্যাশনের দুনিয়ায়

ব্যবসার পরিধি বাড়াতে গিয়ে ড. আকিল প্রবেশ করেছেন ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতেও।
২০১৮ সালে শুরু হওয়া ‘ল্যান্ড’ ফ্যাশন অ্যান্ড লাইফস্টাইল প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি যুক্ত আছেন। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বগুড়ায় প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি শোরুম রয়েছে। একসময় যে ব্যবসার কেন্দ্র ছিল সুতা ও টেক্সটাইল, সেটিই সময়ের সঙ্গে ভোক্তার জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এটি তাঁর ব্যবসায়িক বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

প্রযুক্তির বাজারেও পদচারণা

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে ড. আকিল ধীরে ধীরে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করেন। ২০২৩ সালে প্রিকাইট টেকনোলজিস লিমিটেডের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস খাতে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির তিনটি আউটলেট রয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রিকাইট হোম’-এর মাধ্যমে গৃহস্থালি পণ্যের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে তিনি আইটি সল্যুশন, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডএক্সপার্ট (BrandXpart)-এর সিইও হিসেবে সম্পৃক্ত হন।

অনেকেই হয়তো বড় শিল্পগোষ্ঠীর একজন উদ্যোক্তার প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগকে শুরুতে অস্বাভাবিক মনে করেছিলেন। কিন্তু আজ সেই উদ্যোগগুলো নতুন কর্মসংস্থান, নতুন ব্যবসা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বলা যায়, সুতা উৎপাদনের কারখানা থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং আধুনিক আতিথেয়তা শিল্প—ড. আকিলের প্রতিটি পদক্ষেপই বাংলাদেশের উদ্যোক্তা সমাজের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ। তাঁর গল্প শুধু ব্যবসার বিস্তারের গল্প নয়; এটি নতুন সম্ভাবনা খোঁজার, কর্মসংস্থান সৃষ্টির এবং ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এক চলমান যাত্রা।


তবে এই যাত্রা একেবারে সহজ ছিল না। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একজন উদ্যোক্তা হিসেবে যখন তিনি ছোট আকারের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপে বিনিয়োগ শুরু করেন, তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন—স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতের একজন উদ্যোক্তা কেন ছোট প্রযুক্তি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন? কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগগুলোর ফলাফল দৃশ্যমান হতে শুরু করে। বর্তমানে প্রিকাইট টেকনোলজিস, ব্র্যান্ডএক্সপার্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উদ্যোগগুলোতে দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
ড. আকিলের বিশ্বাস, ভবিষ্যতের অর্থনীতি প্রযুক্তিনির্ভর হবে। তাই প্রচলিত শিল্পের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের খাতে বিনিয়োগকে তিনি দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখেন।


প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েব সল্যুশন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে Next User-সহ একাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রকল্পেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শুধু ব্যবসা নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এনজেড গ্রুপের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার পরিধিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অ্যামিউজমেন্ট পার্কের মতো বড় বিনিয়োগ খাতও রয়েছে।

ব্যবসার বাইরের জগৎ

ব্যবসার বাইরেও তার একটি জগৎ রয়েছে। একজন উদ্যোক্তার জীবন শুধু অফিস, কারখানা আর হিসাবের খাতায় আটকে থাকে না। ড. আকিলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বেশ পুরোনো। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসরে ‘দুরন্ত রাজশাহী’ দলের স্পন্সর ও পিআর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্রিজ ফেডারেশন এবং ২০১৮ সালের তারা স্পিনিং কাপ গলফ টুর্নামেন্টের সঙ্গেও স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

গলফ তাঁর পছন্দের খেলা। ভ্রমণও তাঁর অন্যতম শখ। শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়, ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখতেও তাঁর আগ্রহ আছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেন তিনি। বিশ্বের ৩৬টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করবছেন তিনি। ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ রয়েছে সেই তালিকায়। ক্যামেরার সামনেও একজন পরিচিত মুখ। ব্যবসা ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনাতেও ড. আকিলের উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির নানা বিষয়ে মতামত দিয়েছেন তিনি।

ব্যবসার বিস্তারের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থেকেছেন ড. আকিল। নারীর স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে ‘কোমল’ ফিমেল হাইজিন প্রজেক্টে সম্পৃক্ত তিনি। চ্যানেল আই ছোটকাকু ক্লাবের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। এছাড়াও সমাজকল্যাণ, শিক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ২০২২ সালে তিনি মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

কারখানার বাইরের ড. আকিল

ব্যস্ত ব্যবসায়িক জীবনের বাইরে ড. আকিলের মধ্যে রয়েছে একজন সংগীতপ্রেমী মানুষ। গিটার, ড্রামস ও পিয়ানো বাজাতে পারেন তিনি। চিত্রাঙ্কন, সাঁতার ও ড্রাইভিংয়েও তাঁর আগ্রহ রয়েছে।
তাঁর এই আগ্রহগুলো হয়তো ব্যবসার হিসাবের খাতায় দেখা যায় না। কিন্তু একজন মানুষকে বুঝতে এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উদ্যোক্তার পরিচয় শুধু তাঁর প্রতিষ্ঠানের আকারে নয়। তাঁর চিন্তা, আগ্রহ এবং জীবনযাপনের মধ্যেও সেই পরিচয়ের অনেকটা লুকিয়ে থাকে।

ড. মো. আব্দুল আহাদ আকিলের পথচলা শুরু হয়েছিল পারিবারিক টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে। সময়ের সঙ্গে সেই যাত্রা বিস্তৃত হয়েছে স্পিনিং, ফ্যাশন, প্রযুক্তি, আতিথেয়তা, শিক্ষা, ক্রীড়া ও বিভিন্ন বিনিয়োগ খাতে।
বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে থাকা শিল্প ও ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলো হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। স্পিনিং মিলের উৎপাদনমুখী শিল্প থেকে শুরু করে প্রযুক্তি স্টার্টআপ, ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান এবং নতুন প্রজন্মের রিসোর্ট প্রকল্প—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নতুন সম্ভাবনা তৈরির চেষ্টা করেছেন।


আতিথেয়তা খাতে নতুন স্বপ্ন

টেক্সটাইল, ফ্যাশন ও প্রযুক্তির পর এবার আতিথেয়তা শিল্পেও নতুন যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ড. আকিল।
গাজীপুরে নির্মাণাধীন Green Apple Hotel & Resort তাঁর অন্যতম স্বপ্নের প্রকল্প। এই প্রকল্পের সিইও হিসেবে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আধুনিক অবকাঠামো, প্রাকৃতিক পরিবেশ, পারিবারিক বিনোদন, কর্পোরেট আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক মানের আতিথেয়তা সেবার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এই রিসোর্ট।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে এবং ২০২৭ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। শুধু একটি রিসোর্ট নির্মাণ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। ড. আকিল মনে করেন, গ্রিন অ্যাপল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট চালু হলে শত শত মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

সামনে যে পথ

ড. মো. আব্দুল আহাদ আকিলের পথচলা শুরু হয়েছিল পারিবারিক টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে। সেই পথ তাঁকে নিয়ে গেছে একাধিক শিল্পখাতে। আজ তাঁর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে স্পিনিং, ফ্যাশন, তথ্যপ্রযুক্তি, গৃহস্থালি পণ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং অন্যান্য বিনিয়োগ।

তবে সামনে তাঁর ভাবনার বড় জায়গা প্রযুক্তি ও সবুজ শিল্পায়ন। ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে টেকসই উন্নয়নকে যুক্ত করাই তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন ব্যবসায়িক কৌশল এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আরও মূল্য সৃষ্টি করতে চান তিনি।

একসময় বাবার হাত ধরে যে তরুণ শিল্পের পাঠ নিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে তিনিই হয়ে উঠেছেন বহুমুখী উদ্যোক্তা। সুতা তৈরির কারখানা থেকে ফ্যাশনের শোরুম, প্রযুক্তির আউটলেট থেকে টেলিভিশনের টকশো—বদলেছে তাঁর কাজের পরিসর। কিন্তু একটি বিষয় একই রয়ে গেছে। নতুন কিছু করার চেষ্টা।

হয়তো উদ্যোক্তাদের লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই। একটি ভাবনা দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। তারপর সেই ভাবনা বদলায়, বড় হয় এবং নতুন নতুন মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
ড. মো. আব্দুল আহাদ আকিলের গল্পও তেমনই একটি চলমান গল্প। যার একটি অধ্যায় লেখা হয়েছে টেক্সটাইলের সুতোয়। আর পরের অধ্যায়গুলো লেখা হচ্ছে প্রযুক্তি, সবুজ শিল্পায়ন, নতুন উদ্যোগ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার নানা রঙে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com