বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও উৎপাদনশীল, উদ্ভাবনী ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তুলতে ১৫ দফা নীতিগত সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিয়েছে দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)।

বুধবার (২৯ জুলাই) আইটিইটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দপ্তরে ‘Building a Productive and Innovative Textile Economy for Bangladesh’ শীর্ষক একটি পলিসি রেকমেন্ডেশন পেপার আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়।

এর আগে ২৭ জুলাই আইটিইটির ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদল বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। ওই বৈঠকে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে একটি সমন্বিত নীতিপত্র প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সুপারিশমালা জমা দেওয়া হয়েছে।

নীতিপত্রে বলা হয়েছে, এলডিসি (LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে শুধু স্বল্পমূল্যের উৎপাদননির্ভর অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন, গুণগত মান, ট্রেসেবিলিটি এবং উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এ লক্ষ্যেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন পর্যায়ে ১৫টি কৌশলগত সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় জাতীয় টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি প্রণয়ন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের কাউন্সিল গঠন, সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার ও শ্রমিক সুরক্ষায় বিশেষ তহবিল সৃষ্টি, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস চালু, কাস্টমস ও লজিস্টিকসের ডিজিটাল রূপান্তর, নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় ডব্লিউটিওসমর্থিত কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন ফান্ড গঠন, মাঝারি ও বড় কারখানায় বাধ্যতামূলক ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ (I&R) বিভাগ চালু, ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট ও জাতীয় ট্রেসেবিলিটি প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প অর্থায়নের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিদ্যমান শিল্পাঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব আধুনিক শিল্প ক্লাস্টারে রূপান্তর, দেশীয় উৎপাদন ও রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে আগামী সাত বছরের মধ্যে মোট ফাইবার চাহিদার অন্তত অর্ধেক পূরণের কৌশল গ্রহণ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ২০৩৫-৩৬ অর্থবছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি পর্যায়ক্রমিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আইটিইটির নেতারা মনে করেন, প্রস্তাবিত নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্প আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনমুখী ও টেকসই হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সম্প্রসারণ, উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং টেক্সটাইল খাতের টেকসই উন্নয়নে এ নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com