বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের পাশে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে কারখানা চালু করেছে জার্মানভিত্তিক পোশাক অনুষঙ্গ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েন্ডলার ইন্টারলাইনিং বাংলাদেশ লিমিটেড’। শনিবার (৩ অক্টোবর) এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ নতুন উৎপাদন সুবিধার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্বোধনী আয়োজনে ওয়েন্ডলার ইন্টারলাইনিং গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা, পোশাক খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ী অংশীদাররা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এই কারখানা চালুর মাধ্যমে দেশীয় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে দ্রুত পণ্য সরবরাহ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জার্মানির ঐতিহ্যবাহী এই পারিবারিক ব্যবসাটির যাত্রা শুরু হয় ১৮৪৩ সালে। প্রথমে বস্ত্র প্রক্রিয়াজাতকরণ (টেক্সটাইল ফিনিশিং) দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে এটি পোশাক খাতের বিশ্বমানের ‘ইন্টারলাইনিং’ উৎপাদনে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে। ২০০৯ সাল থেকেই বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে আসলেও, ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় নিজস্ব অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়েন্ডলার ইন্টারলাইনিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. গেরহার্ট ওয়েন্ডলার বলেন, “১৮৩ বছরের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক উদ্ভাবন ও গুণগত মান বজায় রেখে আমরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্টারলাইনিং খাতের শীর্ষ অবস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের ভাবনায় বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করছে।”
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার কানাত আলতুনবাস বলেন, “বিশ্বের ৩৮টি দেশে প্রায় ৫ হাজার অংশীদার এবং ৩০টি ওয়্যারহাউস নিয়ে আমরা কাজ করছি। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সাথে স্থানীয় গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই পথচলা। জার্মানি ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে আমাদের উৎপাদন নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। নতুন কারখানাটি স্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের দ্রুত পণ্য সরবরাহ ও নির্ভরযোগ্য কারিগরি সহায়তা পেতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং প্রধান আমান হোসেন জানান, “সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে গুণগত মান, টেকসই পদ্ধতি ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহের ওপর জোর দিতে হবে। আমরা কটন, পলিয়েস্টার, ফিউজিবল ও নন-ফিউজড ইন্টারলাইনিং, ওয়াটার-সলুবল উপাদান, সিম টেপসহ পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় নানাবিধ অনুষঙ্গ সরবরাহ করছি। কেবল উপকরণ বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে আমরা টেকনিক্যাল পরামর্শ, ল্যাব টেস্টিং এবং কাস্টমাইজড সমাধানও দিয়ে থাকি।”
অপারেশনস ডিরেক্টর আশিক খান বলেন, “নতুন এই স্থাপনাটির মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের আরও উন্নত সেবা, গুণগত মান এবং দ্রুততম সময়ে সমাধান প্রদান করতে পারব।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন চলায় এখন থেকে পোশাক প্রস্তুতকারক এবং টেকনিক্যাল দলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে, যা দ্রুত গ্রাহক চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। বিশ্বমানের জার্মান প্রযুক্তি ও টেকসই পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ওয়েন্ডলার গ্রুপ।


