স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ রোধে এবং পোশাক খাতের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে এক অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এআইউএসটি) টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের একদল তরুণ গবেষক। কারখানা থেকে ফেলে দেওয়া কাপড়ের টুকরো, কাঠের গুঁড়ো ও ইটিপির বর্জ্য ব্যবহার করে তারা তৈরি করেছেন সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ‘কম্পোজিট বোতাম’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়জুর রহমানের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি পরিচালনা করেন মুকলাছুর রহমান, রুবাইয়াত ফারদিন রূপম এবং গাজী নাফিজুর ইসলাম তন্ময়।
গবেষণায় দেখা যায়, পোশাক খাতের সুতি নিট কাপড়ের কাটিং বর্জ্য, ফার্নিচার কারখানার কাঠের গুঁড়ো এবং ইটিপির বায়োলজিক্যাল স্লাজ বা বর্জ্য একত্র করে হ্যান্ড লে-আপ পদ্ধতিতে শক্তিশালী এই বোতাম তৈরি করা হয়। উপাদান মিশ্রণের ক্ষেত্রে রেজিনের সাথে ল্যাপক্স হার্ডনার ব্যবহার করে ‘এস১’ (ঝুট কাপড় ও কাঠের গুঁড়ো) এবং ‘এস২’ (ঝুট কাপড়, কাঠের গুঁড়ো ও ইটিপি স্লাজ) নামের দুটি ভিন্ন নমুনার বোতাম তৈরি করা হয়। এদের মধ্যে ইটিপি স্লাজ যুক্ত ‘এস২’ বোতামটি সবচেয়ে বেশি মজবুত ও টেকসই প্রমাণিত হয়েছে।
উৎপাদন খরচের দিক থেকেও উদ্ভাবনটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। গবেষণাগারের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, একটি পরিবেশবান্ধব বোতাম উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ২.৪৯ টাকা। বর্তমানে বাজারে ব্যবহৃত ক্ষতিকর প্লাস্টিক বোতামগুলোর দাম ২ থেকে ৫ টাকার মধ্যে, যা অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই নতুন বোতামকে প্রতিযোগিতা করার সমকক্ষ করে তুলেছে।
প্রচলিত প্লাস্টিক বোতাম তৈরিতে অপচনশীল রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, যা বছরজুড়ে বিপুল পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ সৃষ্টি করে। এআইউএসটির গবেষকদের উদ্ভাবিত এই ‘ওয়েস্ট-টু-রিসোর্স’ বা বর্জ্য থেকে সম্পদে রূপান্তরের পদ্ধতিটি তৈরি পোশাক শিল্পের অন্তত তিনটি বড় বর্জ্যকে সরাসরি পুনর্ব্যবহার করার পথ দেখাল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ, স্থায়িত্ব পরীক্ষা ও রাসায়নিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এটি বাণিজ্যিক রূপ পেলে অ্যাপারেল খাতে প্লাস্টিক বোতামের ওপর নির্ভরতা বহুগুণ কমবে। ফলে শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট বা ডেনিম পোশাকে ক্ষতিকর প্লাস্টিকের পরিবর্তে স্থান করে নেবে শতভাগ দেশীয় প্রযুক্তিতে বর্জ্য থেকে তৈরি এই টেকসই বোতাম।


