তৈরি পোশাক রপ্তানির সূতিকাগার হলেও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এ শিল্পে বড় ধস নেমেছে। মূলধনের ঘাটতি, ব্যাংকিং জটিলতা, তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তার অভাবে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একসময় দেশের পোশাক রপ্তানির সিংহভাগ যোগানো চট্টগ্রাম এখন এ খাতে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে দেশ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে পোশাক রপ্তানির শুভসূচনা হয়েছিল। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে তৈরি পোশাক খাতের স্বর্ণযুগ চলে। ওই সময় চট্টগ্রামেই প্রায় ৮০০ কারখানা ছিল, যা দেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত। তবে ২০১৩ সালের রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে না পারা এবং অবকাঠামোগত নানা সংকটে ধস নামে এ খাতে। বর্তমানে চট্টগ্রামে সচল কারখানার সংখ্যা কমে প্রায় ৪০০-তে নেমে এসেছে, যার বড় একটি অংশই খুঁড়িয়ে চলছে।
গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে ডাইং, ওয়াশিং ও প্রিন্টিং কারখানায় নির্দিষ্ট চাপে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় উৎপাদন থমকে গেছে। পাশাপাশি ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে কারখানার উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পেরে অনেক শিল্প মালিককে আকাশপথে (এয়ার ফ্রেইট) পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, যার ফলে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
বন্দর সুবিধা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে বড় উদ্যোক্তারা এখন চট্টগ্রামে নতুন ইউনিট না বসিয়ে গাজীপুর কিংবা ময়মনসিংহের দিকে ঝুঁকছেন।অন্যদিকে, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর সিংহভাগই ছোট ও মাঝারি (এসএমই) পরিসরের। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারি নীতিমালাগুলো বড় ও গ্রিন ফ্যাক্টরির উপযোগী হলেও ছোট কারখানাগুলোর জন্যবান্ধব নয়।
বহু পুরোনো ছোট কারখানার ওপর নতুন ভবন নির্মাণ কোড (বিএনবিসি) ও কঠোর কমপ্লায়েন্সের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ায় সেগুলোর পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ খাতকে বাঁচাতে এবং ছোট উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ‘এসএমই নীতিমালা’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা।

