দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে উৎপাদনে চরম বিপর্যয় ঘটলেও বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমাচ্ছে না আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বিকল্প জ্বালানির মাধ্যমে সময়মতো পণ্য সরবরাহ বজায় রাখায় বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো দেশের পোশাক খাতের ওপর আস্থা বজায় রাখছে। তবে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ধরে রাখতে গিয়ে কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড পুমা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে পোশাকের অর্ডার কমানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট পৌঁছানোয় ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করলেও তৈরি পোশাক খাতের এই পরিস্থিতি নিয়ে তারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।
বর্তমানে প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে ০ থেকে ১ পিএসআই-এ নেমে এসেছে, যেখানে স্বাভাবিক উৎপাদনে অন্তত ১০ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হয়। ফলে বাধ্য হয়ে কারখানাগুলো ডিজেল, ধানের তুষ, সৌরবিদ্যুৎ এবং কাঠ পুড়িয়ে উৎপাদন সচল রাখছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে প্রতি মাসে একেকটি প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। গ্যাসের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি মূল্যে ডিজেল কিনে কারখানা চালাতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।তবে সব ক্ষেত্রে চিত্র এক নয়।
বিকেএমইএ সভাপতি ও এমবি নিট ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাতেম জানান, দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ঝুঁকি এড়াতে ইউরোপের এক ক্রেতা তাদের নির্ধারিত অর্ডার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক টেক্সটাইল মিল নতুন ক্রয়াদেশ নেওয়া সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে।বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে দেশে গ্যাস সংকট তীব্র রূপ নেয়। দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা টেক্সটাইল খাত ব্যাপকভাবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শিল্পমালিকরা দ্রুত টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন।
বিদ্যমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) উদ্যোক্তারা। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটির চূড়ান্ত অবস্থান ও প্রস্তাবনা প্রকাশ করা হতে পারে।

