দেশের চলমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে যখন চালু শিল্পকারখানাই টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই বন্ধ থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু করতে ৪১ হাজার কোটি টাকার অর্থায়নে সম্মত হয়েছে ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬০ হাজার কোটি টাকার এই বিশেষ প্যাকেজের ১৯ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাকি ৪১ হাজার কোটি টাকা জোগাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। পুরো তহবিলের মধ্যে শুধু বন্ধ কারখানা চালুর জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। এরই মধ্যে ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে ৩৭টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। অর্থায়নে সম্মত হওয়া ১৭টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সোনালী ব্যাংক। এছাড়া অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক ২ হাজার কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে জ্বালানি সংকট সমাধান না করে বন্ধ কারখানায় নতুন করে অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তাদের সংগঠনের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ২ হাজার থেকে কমে বর্তমানে ৮০০-তে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় নতুন কারখানা চালুর চেষ্টার চেয়ে বর্তমানে চালু থাকা কিন্তু বন্ধের ঝুঁকিতে পড়া কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখা অধিক জরুরি।
একই শঙ্কা প্রকাশ করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, শিল্পে নতুন বিনিয়োগের প্রধান শর্তই হলো গ্যাসের সহজলভ্যতা ও পরিবেশ। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করে শুধু কম সুদে ঋণ দিলে উদ্যোক্তারা কারখানা চালাতে পারবেন না।
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বন্ধ কারখানায় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় কম খরচে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঋণের সঠিক ব্যবহার ও কঠোর তদারকি প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরীও একই মত দিয়ে বলেন, বর্তমান সংকট না মিটিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হলে সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
এদিকে প্রণোদনার অর্থ যেন ভিন্ন খাতে না যায়, সে জন্য বিশেষ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ও ব্যবহার সরাসরি তদারকি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

