২০০৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া মাত্র একটি ডেনিমের ক্রয়াদেশ বদলে দিয়েছিল হা-মীম গ্রুপের পোশাক খাতের গতিপথ। সেই একটি অর্ডার দিয়ে শুরু হওয়া পথচলা আজ এক বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্যে রূপ নিয়েছে। প্রায় দুই দশকের ব্যবধানে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ রফতানিকারকদের অন্যতম এই শিল্পগোষ্ঠী।
প্রতিষ্ঠানটি এখন মার্কিন বাজারে বছরে প্রায় ৬৫ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থের পোশাক রফতানি করছে।বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড আমেরিকান ঈগল, গ্যাপ, জেসিপেনি, জারা, এইচঅ্যান্ডএম, ইউনিক্লো, পিভিএইচ এবং টমি হিলফিগারের মতো বড় বড় সব প্রতিষ্ঠানের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হা-মীমের তৈরি পোশাক। ডেনিম পণ্যের পাশাপাশি ওভেন টেক্সটাইল ও সুতা উৎপাদনেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ টেক্সটাইল ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তুলেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্রুপের বর্তমান অবস্থান ও সম্ভাবনা নিয়ে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ জানান, মার্কিন বাজারে বছরে ৬৫ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি বাস্তব প্রতিফলন। তার মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে জ্বালানি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক সে দেশের বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক সুবিধা কার্যকর হলে রফতানি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।ডেনিম থেকে টেক্সটাইল সাম্রাজ্য২০০৭ সালে যখন ডেনিম কারখানাটি যাত্রা শুরু করে, তখন এর উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাসে ৭ লাখ গজ। ধাপে ধাপে তা বেড়ে বর্তমানে মাসে ৫০ লাখ গজে উন্নীত হয়েছে। সব মিলিয়ে বছরে হা-মীম প্রায় ৬ কোটি গজ ডেনিম ফ্যাব্রিক, ৩ কোটি গজ টেক্সটাইল এবং ৩২ হাজার ৪০০ টন সুতা উৎপাদন করে। উৎপাদিত সুতার প্রায় অর্ধেকই নিজেদের কাপড়ে ব্যবহার করা হয়।
একক কারখানা ইউনিট হিসেবে পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সদস্যদের মধ্যে হা-মীম গ্রুপের ‘রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড’ দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই একটি ইউনিট থেকেই রফতানি হয়েছে ৩০ কোটি ২৩ লাখ ডলারের পোশাক।
২৬ কারখানায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান১৯৮৪ সালে এ কে আজাদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই গ্রুপে বর্তমানে মোট ২৬টি আধুনিক কারখানা রয়েছে। আশুলিয়া, টঙ্গী, টাঙ্গাইল ও কালিগঞ্জ অঞ্চলে অবস্থিত এই কারখানাগুলোতে রয়েছে ৪০০টির বেশি প্রোডাকশন লাইন। অটোমেটেড কাটার ও ট্রিমারের মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনিক ৩ লাখ পিস এবং মাসে প্রায় ১ কোটি পিস পোশাক তৈরি হয়।
বর্তমানে হা-মীম গ্রুপে কাজ করছেন প্রায় ১ লাখ কর্মকর্তা ও শ্রমিক। একটি একক অর্ডারের ওপর ভর করে শুরু হওয়া ডেনিম তৈরি থেকে আজ বিশ্ব পোশাক খাতের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের নাম সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে বাংলাদেশের এই গ্রুপটি।

