EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

বাংলাদেশ পুলিশ আবারও তাদের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে দুই দফা সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশ প্রশাসন নতুন পাঁচ ধরনের রঙের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে একটি রঙ চূড়ান্ত করার অপেক্ষা চলছে।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিফর্ম বারবার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কারণ এতে বড় অঙ্কের ব্যয় জড়িত। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশের নতুন পোশাক তৈরিতে কাপড় সরবরাহে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছিল দুটি প্রতিষ্ঠানকে।

নতুন পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের অনেক পুলিশ সদস্যের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত রঙটি আকর্ষণীয় নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিদ্রূপ হওয়ায় তারা অস্বস্তিতে পড়ছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ সংস্কারের দাবি ওঠে, যার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ‘আয়রন’ রঙের পোশাক নির্ধারণ করা হয় এবং একই বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে তা ব্যবহারে আসে। তবে এখনো সব সদস্য নতুন পোশাক পাননি।

পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব ও আনসারের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও ছিল, যদিও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্য রয়েছে এবং প্রত্যেককে বছরে পাঁচ সেট পোশাক দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০০৪ সালে পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, এরপর দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার পরিবর্তন করা হয়।

সাম্প্রতিক প্রস্তাবে পাঁচটি ভিন্ন রঙ বিবেচনায় আনা হয়েছে—খাকি-নেভি ব্লু, সম্পূর্ণ খাকি, পুরোনো নেভি ব্লু, বর্তমান আয়রন রঙ এবং আকাশি-নেভি ব্লু সংমিশ্রণ।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন পোশাক নির্ধারণে পুলিশ সদস্যদের মতামত ও দেশের আবহাওয়া বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিল থাকায় মাঠে পুলিশ চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, বিদ্যমান পোশাকে পুলিশ সন্তুষ্ট নয়। তাই ঐতিহ্যবাহী কোনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে, আগের ইউনিফর্মের কাপড় সরবরাহে ৫১ কোটি টাকার কাজ পেয়েছিল নোমান গ্রুপ এবং ২৫ কোটি টাকার কাজ পায় প্যারামাউন্ট গ্রুপ। সরবরাহ আংশিক সম্পন্ন হলেও নতুন সিদ্ধান্তের কারণে কাজ আপাতত স্থগিত রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এক বছরের মধ্যে আবার ইউনিফর্ম পরিবর্তন করলে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। তাদের পরামর্শ, পোশাক পরিবর্তনের পরিবর্তে পুলিশের সেবার মান ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com