EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

বৈশ্বিক তৈরি পোশাক রফতানি বাজারে দীর্ঘদিনের দ্বিতীয় অবস্থান হারানোর বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের শক্তিশালী অবস্থান এই উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বৈশ্বিক পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রফতানি ১.৬৪ শতাংশ কমে ৩৮.৭০ বিলিয়ন (৩ হাজার ৮৭০ কোটি) ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, দেশটির রফতানি ইতোমধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং চলতি বছরে তা ৪৭ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের প্রধান দুটি বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল মেয়াদে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯.৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে ওটিইএক্সএর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে ১১.২৪ শতাংশ। বিপরীতে, বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও ভিয়েতনাম মার্কিন বাজারে ১.৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং ইইউ বাজারে তাদের পতন ছিল মাত্র ০.৭ শতাংশ। এছাড়া ভারত, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানও বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছে।

দেশের অভ্যন্তরে কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাই

আন্তর্জাতিক বাজারের এই মন্দার প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পাঞ্চলগুলোতেও। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, তীব্র গ্যাস সংকট এবং উচ্চ ব্যাংক সুদহারের কারণে দেশীয় উদ্যোক্তারা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সাভার, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন, যা উৎপাদন ও রফতানি প্রবাহকে আরও দুর্বল করেছে।

অর্থবছরের সামগ্রিক রফতানি চিত্র

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য রফতানি দাঁড়িয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৫৮ শতাংশ কম। ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাসই রফতানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। জুন মাসে ২৫.৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তৈরি পোশাক রফতানিকারকরা বলছেন, এটি মূলত আগের বছরের কম রফতানির (লো বেজ) কারণে সাময়িক স্বস্তি মাত্র, বাস্তবে নতুন রফতানি আদেশ আশানুরূপ বাড়েনি।

ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত

পোশাক খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইউরোপের দুর্বল অর্থনীতির কারণে নতুন ক্রয়াদেশ প্রত্যাশামতো আসছে না। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের মতে, বিশ্ববাজারে কততম অবস্থানে বাংলাদেশ রয়েছে, তার চেয়ে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও পণ্যের মূল্য সংযোজন (ভ্যালু এডিশন) ধরে রাখা। এই সংকট কাটাতে দেশের অভ্যন্তরে লজিস্টিকস সাপোর্ট, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং দ্রুত নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com