⁠বাণিজ্য

নোমান গ্রুপের ইউনিফর্মে মানের ঘাটতি পেয়েছে পুলিশ

  মিরর ডেস্ক ৩ মার্চ ২০২৬ , ২:০৯:১৮ অনলাইন সংস্করণ

পুলিশের নতুন ইউনিফর্মের জন্য নোমান গ্রুপের সরবরাহ করা কাপড়ের ল্যাব টেস্টে প্রতিশ্রুত মানের ঘাটতি পেয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে কাপড়ের সুতার ঘনত্ব (জিএসএম) ও আর্দ্রতা শোষণক্ষমতায় ঘাটতি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তবে কাপড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপের দাবি, যথাযথ মান পরীক্ষার পরেই কাপড় সরবরাহ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণের পর কাপড় সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় নোমান গ্রুপকে। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিট থেকে কাপড়ের মান নিয়ে অভিযোগ আসতে থাকলে তা পুনরায় পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়।

পরীক্ষায় দেখা যায়, শার্টের কাপড়ে সুতার ঘনত্ব চুক্তি অনুযায়ী ২০৫ জিএসএম (কমবেশি ৫) থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে ১৯৩ জিএসএম। অর্থাৎ প্রতি পোশাকে গড়ে ৭ জিএসএম কম। একইভাবে আর্দ্রতা শোষণক্ষমতার ক্ষেত্রেও ঘাটতি ধরা পড়ে। চুক্তি অনুযায়ী শার্টের কাপড়ে উইকিং বা আর্দ্রতা ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা ৬ থেকে ১০ সেন্টিমিটার থাকার কথা। কিন্তু পরীক্ষায় তা পাওয়া গেছে ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মান দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।কাপড়ের উইকিং পরীক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী, এক সেন্টিমিটার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে ১০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখলে আর্দ্রতা ওপরের দিকে ৫ থেকে ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঠার কথা। কিন্তু সরবরাহ করা কাপড়ে তা ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের বেশি হয়নি বলে জানা গেছে।

বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিএসএম কম হলে একই ওজনে বেশি সংখ্যক পোশাক তৈরি সম্ভব হয়, যা আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা ৬ সেন্টিমিটারের নিচে হলে সেই কাপড় দীর্ঘ সময় ব্যবহারের উপযোগিতা হারায়।

অভিযোগের বিষয়ে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মান যাচাই করে চুক্তি অনুযায়ী কাপড় সরবরাহ করা হয়েছে। তার দাবি, দরপত্রে কাজ না পাওয়া কিছু ঠিকাদার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন ও বিশেষায়িত ইউনিটের জন্য সাত লাখ মিটার আয়রন টিসি প্লেইন ফ্যাব্রিক কিনতে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া ১ লাখ ৭৫ হাজার মিটার টিসি টুইল কমব্যাট ফ্যাব্রিক কেনা হয়েছে ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকায়। জেলা পুলিশের জন্য ১০ লাখ ২০ হাজার মিটার কফি টিসি টুইল কাপড়ের দাম পড়েছে ৩৯ কোটি ৩৭ লাখ ১৯ হাজার টাকা। আরও পাঁচ লাখ মিটার কফি টিসি টুইল ফ্যাব্রিক কেনা হয়েছে ১৯ কোটি ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকায়।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, উচ্চমূল্যে কেনা পোশাকের মান নিয়ে অনেক সদস্যের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন ইউনিটের মতামত সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশের পোশাক সরকার নির্ধারণ করে থাকে। অভিযোগ বা প্রস্তাব যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশের ইউনিফর্ম নির্ধারণে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ও ব্যবহারিক দিক যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পোশাকের মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

আরও খবর

Sponsered content