চলতি ২০২৬ বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটিইএক্সএ) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য চার মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-এপ্রিলে যেখানে রফতানির পরিমাণ ছিল ২৯৮ কোটি ১৪ লাখ ডলার, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬৪ কোটি ৬২ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে প্রায় ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ডলার। কেবল এপ্রিল মাসেই এই পতন ছিল ১৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমলেও বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলো কিন্তু ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এই সময়ে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ১.৩১ শতাংশ বেড়ে ৫১৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে মার্কিন বাজারে পোশাক সরবরাহে শীর্ষস্থানটি এখন ভিয়েতনামের দখলে, আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া কম্বোডিয়া থেকে আমদানি ১৪.০৭ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ২.২৭ শতাংশ বেড়েছে।বিপরীতে বাংলাদেশের মতোই বড় পতন দেখেছে চীন ও ভারত। শীর্ষ বাজারটিতে চীনের পোশাক রফতানি প্রায় ৫০.২১ শতাংশ এবং ভারতের ২৮.০৩ শতাংশ কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিই ১২ শতাংশ কমে গেছে। তবে এই বাজার সংকোচনের মধ্যেও ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া রফতানি বাড়াতে পারলেও বাংলাদেশ তা ধরে রাখতে পারেনি। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই একক বাজারে এখন তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে দেশের পোশাক খাতকে।
পরিমাণগত দিক থেকেও চার মাসে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি ৯.১ শতাংশ কমেছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশী পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও ২.৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি বর্গমিটারে ২ ডলার ৯৭ সেন্টে নেমে এসেছে, যা দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

