আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসে অহেতুক বিলম্ব এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে হয়রানি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যবসায়িক খরচ কমানোর লক্ষ্যে দেশের সব কাস্টম হাউসের জন্য ১৩টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে সংস্থাটি।

এনবিআরের জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, কাস্টমস আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথির বাইরে বাড়তি কোনো কাগজপত্র আমদানিকারকদের কাছ থেকে চাওয়া যাবে না। যেসব দলিল ইতিমধ্যে অনলাইনে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ম্যানুয়াল বা কাগজের কপি দাখিল করাও নিষ্প্রয়োজন।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, সুনির্দিষ্ট শুল্ক ফাঁকির তথ্য ছাড়া একই পণ্যচালান বারবার সরেজমিন কায়িক পরীক্ষা করা যাবে না। কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট প্রক্রিয়ার অপ্রয়োজনীয় ধাপ পরিহার করতে হবে। যেসব চালান অঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোর ফাইল মিছামিছি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো বন্ধ করতে হবে।

একই পণ্যচালান একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা এড়াতে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দরগুলোতে কনটেইনার জট কমাতে দ্রুত নিলাম প্রক্রিয়া শেষ করা এবং রাজস্ব সুরক্ষায় তদারকি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর।

এনবিআরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমসের প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলাম। মাঠপর্যায়ে এসব নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা সুফল পাবেন এবং ব্যবসার ব্যয় কমবে।”

তবে তিনি মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার অসহযোগিতা ও অনিয়মের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, অসৎ কর্মকর্তাদের কারণে যেন ভালো ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, কাস্টমস কর্মকর্তাদের একাংশ নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এনবিআরের আধুনিক ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ সফটওয়্যারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মডিউল এখনো সব কাস্টম হাউসে সমানভাবে চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সক্ষমতা তৈরি না করে এই নির্দেশনা হুট করে বাস্তবায়ন করতে গেলে রাজস্ব ঝুঁকির সৃষ্টি হতে পারে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com