গ্যাস-বিদ্যুৎ তীব্র সংকট এবং ব্যাংক ঋণসহ নানামুখী আর্থিক টানাপোড়েনে গত এক মাসে দেশের প্রায় ৬০০টি বস্ত্র কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। এতে বস্ত্র খাতে আগে থেকে বন্ধ থাকা মিলসহ বর্তমানে মোট বন্ধ কারখানার সংখ্যা বেড়ে ৯০০টিতে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার পরিচালনা পর্ষদের জরুরি বৈঠক শেষে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তালিকাটি দ্রুতই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে বিশেষ সহায়তা চাওয়া হবে।

সংকট উত্তরণে বিটিএমএ-এর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে দুই বছরের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা বিশেষ ছাড় দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সংকটকালীন সময়ে ব্যবসায়ীদের খেলাপি ঘোষণা না করার এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে একটি নতুন ‘রিফাইন্যান্স স্কিম’ চালুর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মূলত নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বস্ত্র মিলগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় কারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা (ক্যাপটিভ পাওয়ার) অচল হয়ে পড়েছে। তবে চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের কারখানাগুলোতে এর প্রভাব কিছুটা কম দেখা গেছে।এদিকে নিট পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, কেবল গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংকটই কারখানা বন্ধের একমাত্র কারণ নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশের অভাব, তারল্য সংকট এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি জানিয়েছেন, বিদ্যমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে ন্যূনতম দুই বছর সময় লাগতে পারে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com