যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের নেওয়া ১০০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত দিচ্ছে মার্কিন সরকার। এই পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতের বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা তাঁদের দেওয়া ছাড় ও ক্ষতির অংশ বায়ারদের কাছে ফেরত বা সমন্বয়ের দাবি করছেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের চাপ সামলাতে বহু বাংলাদেশি রপ্তানিকারক পণ্যের দামে ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক বেআইনি ঘোষিত হওয়ায় মার্কিন বায়ারদের পাশাপাশি বাংলাদেশি সরবরাহকারীদেরও ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন দেশের পণ্যে অতিরিক্ত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করে। সে সময় পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে টিকিয়া থাকা ও কারখানার রপ্তানি আদেশ সচল রাখতে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের ওপর দাম কমানোর ব্যাপক চাপ দেয় মার্কিন বায়াররা। বায়ারদের ধরে রাখতে অনেক রপ্তানিকারক শুল্কের বাড়তি খরচের একটি অংশ নিজেরা বহন করেন।
তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের ওই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়ের পর মার্কিন সরকার আমদানিকারকদের কাছ থেকে নেওয়া ১৬৬ বিলিয়ন ডলার শুল্কের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে।
যেভাবে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন উদ্যোক্তারা
মার্কিন বায়াররা সরকার থেকে শুল্কের টাকা ফেরত পাওয়ায় বাংলাদেশি সরবরাহকারীরাও তাঁদের হিস্যা দাবি করছেন। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সরাসরি অর্থ ফেরত আনা কিছুটা জটিল হতে পারে। এর বদলে কয়েকটি বিকল্প উপায়ে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন:
ভবিষ্যৎ অর্ডারে মূল্য সমন্বয়:
পরবর্তী ক্রয়াদেশগুলোতে পণ্যের দাম কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়া।
রপ্তানির পরিমাণ বা ভলিউম বাড়ানো:
বায়ারদের থেকে অতিরিক্ত অর্ডারের প্রতিশ্রুতি নেওয়া, যাতে সামগ্রিক মুনাফায় ক্ষতি উঠে আসে।
অন্যান্য ক্ষেত্রে ছাড়:
জরুরি বিমান পরিবহন (এয়ার শিপমেন্ট) বা বিলম্বে সরবরাহের পেনাল্টির মতো ক্ষেত্রে বায়ারদের কাছ থেকে ছাড় পাওয়া।
এলডিপি রপ্তানিকারকদের আইনি পদক্ষেপের সুযোগ
যেসব প্রতিষ্ঠান ‘ল্যান্ডেড ডিউটি পেইড’ (এলডিপি) পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক পাঠাত, তাদের কাস্টমস শুল্ক নিজেদেরই দিতে হয়েছিল। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, এলডিপি পদ্ধতিতে রপ্তানি করা ব্যবসায়ীরা চাইলে মার্কিন আইনি সহায়তার মাধ্যমে শুল্কের টাকা সরাসরি ফেরত দাবি করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু আইনজীবী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
শিল্প মালিকদের বক্তব্যবাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, দুঃসময়ে সরবরাহকারীরা বায়ারদের পাশে দাঁড়িয়ে যে আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেছিলেন, বায়ারদের শুল্ক রিফান্ড পাওয়ার পর এখন সেই ক্ষতিপূরণ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
একইভাবে মার্কিন একাধিক ব্র্যান্ডের স্থানীয় প্রতিনিধিরাও মনে করছেন, বাংলাদেশি সরবরাহকারীরা শুল্কের বোঝার একাংশ বহন করেছিলেন বলেই মার্কিন আমদানিকারকেরা লাভবান হতে পেরেছিলেন। তাই ব্যবসায়িক নীতি ও ধারাবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সরবরাহকারীদের এই পাওনা বিভিন্ন উপায়ে সমন্বয় করে দেওয়া উচিত।

