১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতি সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনার জন্য এই নির্দেশনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে লেখা এক চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর দেশীয় বস্ত্র খাতের সুরক্ষা এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের কাঁচামাল সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা তুলে নিতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সরকারের সর্বশেষ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি জানান, বিদ্যমান সংকট কাটাতে খুব শিগগিরই বিজিএমইএ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রতিনিধিরা এক যৌথ বৈঠকে বসবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় দেশের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কাঁচামাল আমদানি নিয়ে স্থানীয় টেক্সটাইল মিলমালিক ও পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটেই সরকারের তরফ থেকে এ সিদ্ধান্ত এলো।নতুন আমদানি নীতি আদেশে নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের ফ্যাব্রিক আমদানিতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ফলে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় গত ১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে স্মারকলিপি দেয় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
পরবর্তীতে এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, নিট খাতের অধিকাংশ কাঁচামাল সরবরাহে স্থানীয় মিলগুলোর সক্ষমতা রয়েছে। তবে কিছু বিশেষায়িত কাঁচামাল এখনো বিদেশ থেকে আনতে হয়।
রপ্তানিকারকদের বক্তব্য, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগী হিসেবে টিকে থাকতে অনেক সময় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পছন্দ, সস্তা কাঁচামাল কিংবা বিশেষ কিছু ফ্যাব্রিক আমদানির বাধ্যবাধকতা থাকে। সব ধরনের নিট ফ্যাব্রিক এখনো দেশে তৈরি হয় না।অন্যদিকে টেক্সটাইল মিলমালিকদের দাবি, স্থানীয় নিট খাতের চাহিদা পূরণে দেশীয় মিলগুলোর পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। কাঁচামাল আমদানিতে নিয়মনীতি কঠোর থাকলে বিদেশি ক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে, যার বড় একটি অংশ আসে নিটওয়্যার খাত থেকে।


