জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে জুলাই মাসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তেও প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় কম শুল্কহারের সুবিধায় রয়েছে বাংলাদেশ, যা মার্কিন বাজারে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
ইইউর বাজারে সুবাতাস
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ১৫৬ কোটি মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৯.০৯ শতাংশ বেশি।
এর আগে জুলাই মাসে রপ্তানি রাজস্বে খানিকটা মন্দা দেখা যায়, যেখানে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ১৯৩ কোটি ডলার—যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২.৪৫ শতাংশ কম ছিল। তবে সব মিলিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ইইউর বাজারে মোট ৩৪৯ কোটি ডলারের পোশাক পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২.৩৫ শতাংশ বেশি।
পরিসংখ্যান ও অতীত চিত্র
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ মোট ১৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩.৩১ শতাংশ কম ছিল। অন্যদিকে ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হিসেব বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) ইইউতে পোশাক রপ্তানি ১৩.৬৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৭ কোটি ডলারে।
শিল্প মালিকদের বক্তব্য
বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইপিবির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা অটেক্সা ও ইউরোস্ট্যাটের তথ্যের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে জানান, সঠিক চিত্র পেতে অন্তত আরও এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট রপ্তানিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তবে আশার কথা জানিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সম্প্রতি কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এই ধারা বজায় থাকলে ক্রেতাদের আস্থা ফিরে আসবে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি আরও বেগবান হবে।


