EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

একটি ছোট উদ্যোগ এখন বদলে দিচ্ছে গ্রামের বহু নারীর জীবন। শাহিন মিয়ার গড়ে তোলা এই কারখানায় বর্তমানে অর্ধশতাধিক নারী প্যান্ট, শার্ট ও পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করছেন। পাশাপাশি নতুনদের দক্ষ করে তুলতে কারখানার পাশের একটি কক্ষে পাঁচজন নারীকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শাহিন মিয়া জানান, তাঁর লক্ষ্য শুধু ব্যবসা বাড়ানো নয়—গ্রামের দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তিনি বলেন, আর্থিক সহায়তা পেলে কারখানার পরিসর আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে আরও অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

এই কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন স্থানীয় ভগবানপুর গ্রামের শেফালী আক্তার (৩৭)। তিনি বলেন, দিনমজুর স্বামীর একার আয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালানো কঠিন ছিল। এখন কারখানায় কাজ করে অতিরিক্ত আয় হচ্ছে, ফলে পরিবার নিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে পারছেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমানে স্কুলে পড়ছে।

শাহিনের এই উদ্যোগে মুগ্ধ হয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বন্ধু মজিবর রহমান। তিনি জানান, দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছা দেখে তাঁরা চার বন্ধু মিলে শাহিনকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেন, যাতে তিনি উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে পারেন।

চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, শাহিন মিয়া শুধু নিজের জীবনের পরিবর্তন আনেননি, তাঁর মাধ্যমে গ্রামের নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলেছে।

এ কারখানার আরেক কর্মী খয়রুল বেগম, যিনি ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে এখানে কাজ শুরু করেন। এখন তিনি নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে নতুন করে জীবন গুছিয়ে নিচ্ছেন। জমি কিনেছেন, একটি গাভিও পালন করছেন।

চ্যাংড়া গ্রামের রঞ্জিনা খাতুন বলেন, সেলাইয়ের কাজ শিখে তাঁর জীবন বদলে গেছে। এখন আর অভাবের কারণে না খেয়ে থাকতে হয় না।

গ্রামের এই ছোট উদ্যোগটি এখন হয়ে উঠেছে আশার প্রতীক—যেখানে কর্মসংস্থান, দক্ষতা আর স্বপ্ন একসঙ্গে গড়ে তুলছে নতুন ভবিষ্যৎ।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com