নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক পোশাক কারখানার কর্মকর্তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত কর্মকর্তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী কাজী সুমন (৪৫) বন্দর উপজেলার আমিন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় নিটিং-ডাইং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বন্দর খেয়াঘাট এলাকার মহিউদ্দিন ডকইয়ার্ডের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওই দিন সকালেই একদল লোক সুমনের বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে হুমকি দিয়ে আসে।
স্বজনদের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সুমনের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। এরই জের ধরে শনিবার দুপুরে পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সুমনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা।
হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।জানতে চাইলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। গণমাধ্যমের মারফত তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


