বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে নিজেদের অবস্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখলেও চীন ও ভিয়েতনামের পেছনে পড়ে বর্তমানে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বাড়লেও তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে।


অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ (৫.৩৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ৪.৪৩ শতাংশ কম।
একই সময়ে চীনের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ (৫.৬৩ বিলিয়ন) ডলারে। যদিও ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চীন ও বাংলাদেশ উভয়ের রপ্তানি কমতির দিকে, তবুও অঙ্কের হিসাবে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নেয় চীন। আর আগের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম, ধারাটি বজায় রেখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।


বিডিনিউজের বরাতে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, প্রথম সাত মাসের (জানুয়ারি-জুলাই) হিসাবে বাংলাদেশ চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। সে সময়ে বাংলাদেশ ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক চালান পাঠায়, আর চীনের ছিল ৪৫৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। কিন্তু আগস্টের পর্যালোচনায় হিসাব উল্টে যায় এবং চীন দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে।


একক দেশ হিসেবে তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; কারণ দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই আসে এই এক বাজার থেকে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে তা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলার এবং ২০২৫ সালে প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮২০ কোটি ডলারে।


অটেক্সার উপাত্তে জানা যায়, বৈশ্বিকভাবেই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা কিছুটা মন্দা। চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে আমেরিকান ব্যবসায়ীরা সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৪২ শতাংশ কম। তবে সার্বিক বাজার সংকোচন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর প্রতিযোগিতার মুখে পোশাক রপ্তানির এ ধারা বজায় রাখা এখন বাংলাদেশি পোশাকশিল্প মালিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com