বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন বাজারে চাহিদা হ্রাসের মধ্যেও জাপানের পোশাক বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে বাংলাদেশ। গত চার বছর ধরে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির অংশ ৩ শতাংশের আশপাশে থমকে থাকলেও, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে সর্বমোট ১ হাজার ৫৮ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে, যার মধ্যে কেবল জাপানের বাজারেই গেছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক। গত চার বছরের প্রথম প্রান্তিকগুলোর তুলনায় মোট রফতানিতে জাপানের এই হিস্যাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
বিগত চার বছরের রফতানি চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাপানি বাজারে বাংলাদেশের পোশাক সরবরাহ নিয়মিত ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ ছিল ১১৫ কোটি ডলার, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫.৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রফতানি ৯.১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছালেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা পুনরায় ৪.৩ শতাংশ কমে ১১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে বাংলাদেশের সার্বিক পোশাক রফতানিও কিছুটা সংকুচিত হয়েছিল।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে দেশের মোট পোশাক রফতানি ১.৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে নামায় জাপানের বাজার হিস্যা কমে ২.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি সেই স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার বড় সঙ্কেত দিচ্ছে।আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের তথ্যমতে, জাপানের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতেও মন্দাভাব কেটে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরতে শুরু করেছে।
২০২২-২৩ মেয়াদে জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করলেও পরবর্তী সময়ে তা ৭.৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে পরবর্তীতে তা আবার ঘুরে দাঁড়ায় এবং ২০২৪-২৫ মেয়াদে আমদানি ৩.৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে এবং ২০২৫-২৬ মেয়াদে আরও ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। এমনকি চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট এই দুই মাসেই দেশটি ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মতো বিশ্বস্ত ও বড় বাজারে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি ধরে রাখা ইতিবাচক হলেও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। পোশাক খাত বিষয়ক গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানান, জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকের রফতানি সম্ভাবনা মূল্যায়নে মোট রফতানি আয়ের পাশাপাশি বাজার হিস্যার দীর্ঘমেয়াদি গতিপ্রকৃতি নজরদারিতে রাখা জরুরি।
একটি নির্দিষ্ট প্রান্তিকের ভালো পারফরম্যান্স সম্ভাবনার দুয়ার খোলে, তবে বাজার সংহত করতে হলে পণ্যের গুণগত মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, জাপানের পোশাক আমদানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং বাংলাদেশের রফতানি হিস্যা বৃদ্ধি তৈরি পোশাক খাতের জন্য আশার সঞ্চার করছে এবং এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে এশিয়ার এই শীর্ষ অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আগামী দিনে আরও সুসংহত হবে।


