চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণ করে তা কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)। একই সঙ্গে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। জি-স্কপ গাজীপুর আঞ্চলিক কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ বেড়ে যাওয়ায় তৈরি পোশাক শ্রমিকরা চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমান মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের পরিবারের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পোশাক খাত ও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করলেও তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জীবনধারণযোগ্য মজুরির প্রস্তাব
সংগঠনের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, কেবল মালিকদের মুনাফা বা রপ্তানি প্রতিযোগিতার কথা না ভেবে শ্রমিকদের পরিবারের মর্যাদাশীল জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারি বেতন স্কেল, স্কপ (SKOP)-এর ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাব, বর্তমান মূল্যস্ফীতি এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশের পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বিবেচনায় নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও জীবনধারণযোগ্য নতুন মজুরি কাঠামো গঠন করতে হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যেই কার্যকরের তাগিদ
মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও নতুন মজুরি বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের বিলম্বের তীব্র সমালোচনা করেন বক্তারা। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, কোন অজুহাতেই নতুন মজুরি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের হাতে বেতন তুলে দিতে হবে।
জি-স্কপের গাজীপুর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক ফারহানা আলেয়ার সভাপতিত্বে এবং শাজাহান সিরাজের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক বাচ্চু মিয়া। অনুষ্ঠানে জি-স্কপের অন্তর্ভুক্ত ১৭টি সংগঠনের কেন্দ্রীয়, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।


