ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় পতন, শীর্ষে ধসইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) এই অঞ্চলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। ইইউর বাজারে প্রতিযোগী অন্য কোনো দেশের রপ্তানি একবারে এতখানি কমেনি।
ইউরোপের পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ইউরোস্ট্যাট’-এর হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, প্রথমার্ধে ইইউর দেশগুলোতে বাংলাদেশ ৮৬৪ কোটি ৪৮ লাখ ইউরোর পোশাক সরবরাহ করেছে। যেখানে বিশ্বজুড়ে ইইউর সার্বিক পোশাক আমদানি কমেছে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের পতন সবচেয়ে বেশি। প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কের রপ্তানি ১৪.৬০, ভারতের ১২.৪৯ এবং পাকিস্তানের ১২.৫৩ শতাংশ কমলেও ব্যতিক্রম ছিল ভিয়েতনাম, যাদের রপ্তানি ০.৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
ইউরোপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পিছিয়েছে বাংলাদেশ। বছরের প্রথম ছয় মাসে মার্কিন বাজারে পোশাক পাঠানো কমেছে ৫.৭৫ শতাংশ। ইইউতে বাংলাদেশ পরিমাণের দিক থেকে বেশি তৈরি পোশাক পাঠালেও মূল্যের দিক থেকে চীনের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। প্রথমার্ধে চীন প্রতি কেজি পোশাক ১৯.৮৩ ইউরোতে বিক্রি করলেও বাংলাদেশ পেয়েছে গড়ে ১৩.৮৮ ইউরো, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ কম।
রপ্তানি কমার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ সংকটকে দায়ী করছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, ইউরোপের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়া, চীন সরকারের সহায়তায় তাদের কারখানার আগ্রাসী বিপণন কৌশল এবং ভারতের বাণিজ্যিক সুবিধার সুযোগে ক্রয়াদেশ সরে যাওয়ার কারণেই এই পতন। পাশাপাশি দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি ও ব্যবসা পরিচালনায় বাড়তি খরচ প্রতিযোগিতায় টিকতে বাধা সৃষ্টি করছে।

