আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিতব্য দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেশের খ্যাতনামা টেক্সটাইল প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহিদ আল হাসান।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি এইচ.আর. টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেডে জেনারেল ম্যানেজার, তুরাগ গার্মেন্টস অ্যান্ড হোসিয়ারি মিলস লিমিটেডে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও বিভাগীয় প্রধান এবং একেএইচ নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডে দীর্ঘ সময় দায়িত্বশীল পদে কর্মরত ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি তৎকালীন কলেজ অব টেক্সটাইল টেকনোলজি (বর্তমান বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়—বুটেক্স) থেকে ২০০৩ সালে টেক্সটাইল প্রযুক্তিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক ব্যাচগুলোর (১৯৯৯-২০০৩) শিক্ষার্থীদের কাছে মো. জাহিদ আল হাসান ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত একটি মুখ। ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে ক্রিকেটে তার ছিল উজ্জ্বল উপস্থিতি। বিভিন্ন আন্তঃব্যাচ ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সহপাঠী, সিনিয়র ও জুনিয়রদের কাছে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন।
পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে তিনি জাপানের টোকিওতে প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, জাপান, চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও শিল্পমেলায় অংশ নিয়ে সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
ডাইং, নিটিং, ফিনিশিং, ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন পরিকল্পনা ও আধুনিক টেক্সটাইল প্রযুক্তিতে তার রয়েছে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে তিনি শিল্পখাতে একজন দক্ষ ও দূরদর্শী পেশাজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকার সম্পর্কে মো. জাহিদ আল হাসান বলেন, “আইটিইটি হবে দল-মত নির্বিশেষে সকল টেক্সটাইল প্রকৌশলীর অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। আমি এমন একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগঠন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি সদস্য নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন এবং সংগঠনটিকে নিজের বলে মনে করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “অ্যালামনাই সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নেটওয়ার্কিং এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করব। সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করব। সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে।”
টেক্সটাইল শিল্পে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সেবামূলক নেতৃত্বের প্রত্যয় নিয়ে আইটিইটির নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হলে সংগঠনকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও সদস্যবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।


