রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অলস সম্পদ সচল করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের (বিজেএমসি) অতিরিক্ত ১৪.৮০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়া হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড’কে। নতুন এই প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর ফলে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং নতুন করে কর্মসংস্থান হবে অন্তত ৩ হাজার মানুষের।
সম্প্রতি সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
অলস সম্পদকে উৎপাদনমুখী করার উদ্যোগ
প্রেস ব্রিফিংয়ে পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ দেশের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ মিলগুলোকে সচল করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সরকার নিজে ব্যবসা না করে দক্ষ বেসরকারি খাতকে এ কাজে উৎসাহিত করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রপ্তানি আয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ইউরোপের বাজারে মন্দার কারণে বর্তমানে পোশাক রপ্তানিতে কিছু চাপ রয়েছে। তবে দেশীয় পোশাক খাত এখন সাধারণ পণ্যের চেয়ে উচ্চমূল্যের ও মানসম্পন্ন পণ্য তৈরিতে জোর দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আয় বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বন্ধ পাটকল সচল করার অগ্রগতি
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, নরসিংদীর এই মিলটির মোট ৭৭.০২ একর জমির মধ্যে আগে লিজ দেওয়া হয়েছিল ৩৪.৫০ একর। সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং ৩ হাজার ২০০ কর্মী কাজ করছেন।
নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় সেখানে উৎপাদন ও বিনিয়োগ আরও বাড়বে।প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজ দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৯টিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। চালু হওয়া এসব কারখানায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
সয়াবিন তেল উৎপাদনে বড় প্রকল্পজুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসি (IFC)-এর সহযোগিতায় বন্ধ এই পাটকল এলাকায় দৈনিক ৩ হাজার টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সিড ক্রাশিং (বীজ মাড়াই) প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। এখান থেকে সয়াবিন তেল ও সয়া মিল উৎপাদন করা হবে, যা দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এই প্রকল্পে আরও ৩ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

