বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর মাধ্যমে দেশের শিল্পখাতে নতুন প্রাণ সঞ্চারের বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত এই কার্যক্রমে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির হাতছানি তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ইজারা চুক্তির পর ৯টি বন্ধ পাটকলে উৎপাদন শুরু হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। সম্প্রতি প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পাটকল ইজারা দেওয়ার পর এই প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস, খুলনার স্টার জুট মিলস এবং প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস চালু করতে বিনিয়োগ আসছে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা। ফলে এই তিনটি মিল থেকেই শুধু ১১ হাজার ৬২৯ জনের বেশি কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর কো-অপারেটিভ জুটমিল বেসরকারি খাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অপরদিকে ঢাকার করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা চলছে।
বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২০ সালে টানা লোকসানের মুখে বিজেএমসির ২৫টি মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এসব অব্যবহৃত সম্পদ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর ফলে শুধু শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাড়ছে না, বরং পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য ও বহুমুখী পাটের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


