বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড লিভাই স্ট্রস অ্যান্ড কোম্পানির (লিভাইস) বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডেটা ও সরবরাহকারী নথির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্র্যান্ডটির মোট উৎপাদিত জিন্সসহ বিভিন্ন পোশাকের অন্তত ২০ শতাংশ সরবরাহ করছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো।
প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ১২০টি দেশে ব্যবসা পরিচালনা করা লিভাইস প্রায় ৩২টি দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে। নীতিগতভাবে কোনো একক দেশ থেকে মোট সরবরাহের ৩০ শতাংশের বেশি পণ্য নেয় না প্রতিষ্ঠানটি। চীনা পোশাক প্রস্তুতকারক নিউএশিয়া গার্মেন্টসের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, লিভাইসের বৈশ্বিক ডেনিম সরবরাহে চীনের অংশ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এবং বাংলাদেশের অবদান প্রায় ২০ শতাংশ। এছাড়া ভারত ও ভিয়েতনাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ করে পণ্য জোগান দেয়।
শিপমেন্ট তথ্যেও বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের এই বড় অংশীদারত্ব স্পষ্ট। সরবরাহ ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘ট্যারিফলো’র ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের হিসাব মতে, লিভাইসের ১,২০৫টি ইনবাউন্ড চালানের মধ্যে ২৬৮টি গেছে বাংলাদেশ থেকে, যা মোট চালানের ২২.২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক আমদানি নথিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষ কারখানা থেকে লিভাইসের জন্য পুরুষ ও নারীদের মূল ডেনিম প্যান্ট সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কম শ্রমমূল্যের ওপর নির্ভর না করে কারখানার পরিবেশগত মান, নিরাপত্তা ও সমন্বিত উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সুতা ও কাপড়ের মান নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে আধুনিক ওয়াশিং ও ফিনিশিং—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ বিশ্বমানের দক্ষতা অর্জন করেছে। অবকাঠামো, বন্দর সুবিধা এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় ধারাবাহিক উন্নতি বজায় থাকলে ভবিষ্যতে লিভাইসের একক বৃহত্তম সরবরাহকারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।

