বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফ্যাশন আয়োজন নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইক (NYFW) শুরু হয়েছে। এবারের আয়োজনে প্রদর্শিত হচ্ছে ২০২৭ সালের বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমের নতুন সংগ্রহ। ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজিত ফ্যাশন উইকে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের খ্যাতনামা ডিজাইনার ও ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো। র্যালফ লরেন, টমি হিলফিগার, কোচ, মাইকেল কর্স, টরি বার্চ, আনা সুই, প্রোএঞ্জা শুলার ও ডায়ান ভন ফার্স্টেনবার্গের মতো ব্র্যান্ডের নতুন সংগ্রহ রয়েছে এবারের আয়োজনে।
শুরুর দিনেই আলোচনায় আসে টমি হিলফিগারের সংগ্রহ। নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক প্লাজা হোটেলে উপস্থাপিত এই সংগ্রহে ক্লাসিক আমেরিকান স্টাইলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণ প্রজন্মের উপযোগী আধুনিক নকশা। বড় আকারের পোলো শার্ট, চেক নকশা, উজ্জ্বল রং ও ক্যাজুয়াল পোশাকে ছিল নতুনত্ব। জনপ্রিয় মডেল জিজি হাদিদ শোটি উদ্বোধন করেন।
এদিকে র্যালফ লরেনের সংগ্রহেও দেখা গেছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়। নারীদের পোশাকে নেভি ও সাদা রঙের পাশাপাশি টেইলারিং, ডেনিম, ভেলভেট ও অলংকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাসিক আমেরিকান নান্দনিকতাকে আধুনিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল এই সংগ্রহে।
প্রায় এক দশক পর নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মূল সূচিতে ফিরেছে ডায়ান ভন ফার্স্টেনবার্গ বা ডিভিএফ। নতুন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হেনরি জ্যাঙ্কভের অধীনে ব্র্যান্ডটির নতুন সংগ্রহে দেখা গেছে উজ্জ্বল রং, গ্রাফিক নকশা, অ্যানিমেল প্রিন্ট ও আধুনিক সিলুয়েট।
এবারের আয়োজনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো পশম বা ফার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের এবারের আয়োজনে অংশ নেওয়া ডিজাইনারদের জন্য ফারমুক্ত নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ফ্যাশনের পাশাপাশি প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ফ্যাশন উইকে নতুন ডিজাইনারদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের পাশাপাশি উদীয়মান ডিজাইনারদের নতুন ভাবনা, নকশা ও উপকরণ জায়গা করে নিচ্ছে রানওয়েতে। ফলে এবারের আয়োজন শুধু পোশাক প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফ্যাশন শিল্পের পরিবর্তনশীল ধারা, সৃজনশীলতা ও টেকসই ভাবনারও প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
বিশ্বের চার প্রধান ফ্যাশন উইকের একটি নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইক। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি ও সেপ্টেম্বরে আয়োজিত এই ফ্যাশন উৎসব বিশ্বজুড়ে পোশাক, নকশা ও লাইফস্টাইলের নতুন ট্রেন্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবারের রানওয়েতে প্রদর্শিত নতুন সংগ্রহগুলোও আগামী বসন্ত-গ্রীষ্ম মৌসুমের বৈশ্বিক ফ্যাশন ট্রেন্ডে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


