নারায়ণগঞ্জের আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিলাসবহুল বিয়ের পোশাক। এখানকার উৎপাদিত দৃষ্টিনন্দন ওয়েডিং গাউন, স্যুট, জ্যাকেট ও অন্যান্য সামগ্রী যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ।জার্মান বিনিয়োগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান ‘ইউবিএফ ব্রাইডাল লিমিটেড’ ২০২২ সালের এপ্রিলে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার প্রাথমিক মূলধন নিয়ে আদমজী ইপিজেডে যাত্রা শুরু করে।

প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৩৫৭ জন কর্মী কর্মরত আছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারখানাটি থেকে ৫.২৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরে তাদের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার।সাধারণ তৈরি পোশাকের তুলনায় বিয়ের পোশাকের কাপড়ের মান ও সেলাই কৌশল পুরোপুরি ভিন্ন। অর্গানজা, সাটিন ও লেসের মতো স্পর্শকাতর কাপড় প্রক্রিয়াজাত করতে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। ইউবিএফ ব্রাইডালের চিফ অপারেটিং অফিসার মো. রবিউল হক সিদ্দিকী জানান, শুরুতে এ ধরনের কাজের জন্য অভিজ্ঞ কর্মী ও ব্যবস্থাপক পাওয়ার সংকট ছিল। সে কারণে নিজেদের উদ্যোগেই অন্তত তিন মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মীদের যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়।

পরবর্তীতে তাদের মূল উৎপাদন লাইনে যুক্ত করা হয়।ইউরোপের পোল্যান্ডে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ইউবিএফ তাদের কিছু কার্যক্রম বাংলাদেশে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে পোল্যান্ড থেকে আসা বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকরা দেশীয় শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রাথমিক অবস্থায় একটি প্রোডাকশন লাইন থাকলেও বর্তমানে তা ৮টিতে উন্নীত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি ১৩টিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পোশাকের চাহিদা বাড়ায় আগামী দুই বছরে কারখানায় নতুন করে আরও ৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালে বিশ্বে বিয়ের পোশাকের বাজারের আকার ছিল ৮২.৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০৯.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব বৈচিত্র্যময় পোশাক ৪০০ থেকে ৫০০, এমনকি ১ হাজার ডলারেও বিক্রি হয়। আদমজী ইপিজেড দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের নামীদামী ব্র্যান্ডগুলোর জন্য পোশাক তৈরি করে আসছে। বিশেষায়িত ব্রাইডাল পোশাক তৈরির এই সাফল্য বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com