ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে তুলনামূলক সস্তায় তৈরি পোশাক সরবরাহ করেও রপ্তানি বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ও পণ্যের গড় দাম—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিপরীতে, প্রতি কেজিতে অর্ধেকেরও বেশি দাম বেশি পেয়েও ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনামী পোশাক।

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রথমার্ধে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৬.৪৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৬৪ বিলিয়ন ইউরোয়। এই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকে বাংলাদেশের গড় আয় ছিল ১৩.৮৮ ইউরো, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ কম।

রপ্তানির পরিমাণ ও দর দুটিই কমায় ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ২২.৭৩ শতাংশ থেকে কমে ২১.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে।অন্যদিকে, ভিয়েতনামের চিত্র ভিন্ন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি প্রতি কেজি পোশাক গড়ে ২৯.৩২ ইউরোয় রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩.৪৩ শতাংশ বেশি। অর্থমূল্যে উচ্চ দর পাওয়ায় সামগ্রিক পরিমাণ কমলেও ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় আগের বছরের চেয়ে ০.৩৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে ইইউর পোশাক আমদানির ২৮.৮ শতাংশ দখল করে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে চীন।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তা ও বিজিএমইএ সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে কৃত্রিম তন্তুর (এমএমএফ) তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশের কারখানাগুলো প্রধানত সুতি বা তুলাভিত্তিক (কটন) পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। ভিয়েতনামের অধিকাংশ কারখানা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক তৈরি করায় তারা বেশি মূল্য পাচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা ও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে কিছু ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের পোশাক খাত।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com