বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও তিন শিক্ষার্থীকে অর্থদণ্ড ও মুচলেকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বুটেক্স ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত এবং ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল হোসাইনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া একই বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী সুমন সরকার ও দেবনাথ মৌলিক চন্দ্রকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সুমন সরকারের বিভাগ ভুলবশত ‘অ্যাপারেল’ লেখা হলেও পরবর্তীতে তা ‘ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর গেটে ৪৯তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড বুটেক্স শৃঙ্খলা বিধান ২০১৫-এর ৩(ঘ) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, নোটিশে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। তাছাড়া সরাসরি হামলায় যুক্ত থাকা অভিযুক্তদের তুলনায় আশপাশে থাকা কয়েকজনকে বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বুটেক্সের প্রক্টর ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান জানান, “এটি একটি প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া। বহিষ্কৃতদের কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। তাদের দেওয়া জবাব নতুন একটি কমিটি পর্যালোচনা করার পর শৃঙ্খলা বোর্ড চূড়ান্ত রায় দেবে।”

