কাচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাব এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প। লোকসান সামলাতে না পেরে জেলার প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকেরা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক।

বাংলাদেশ পাওয়ারলুম অ্যান্ড হ্যান্ডলুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর ও উল্লাপাড়াসহ আটটি উপজেলায় পাঁচ লাখেরও বেশি তাঁত রয়েছে। এসব কারখানার ওপর সরাসরি নির্ভর করে প্রায় পাঁচ লাখ পরিবার।

তবে গত কয়েক বছরে সুতা, রঙ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের দাম কয়েক গুণ বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়েনি শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার দাম। স্থানীয় তাঁতিরা জানান, কয়েক বছর আগের ৫ হাজার টাকার সুতার বস্তা এখন ২১ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছে।

অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের পাশাপাশি বিদ্যুৎসংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাপড় সরবরাহ করতে পারছেন না মালিকেরা। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।

বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে ঐতিহ্যবাহী এই খাতকে বাঁচাতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংগঠন নেতারা। তারা জানান, সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে এ শিল্পের বড় অবদান রয়েছে। এই শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সুতা ও রঙের বাজারে সরকারি তদারকি, ভর্তুকি প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত বাজার সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছেন তারা।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com