দেশের শিল্প খাতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। চলতি ২০২৬ বছরের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। মালিকপক্ষ ক্রয়াদেশের ঘাটতি ও আর্থিক সংকটকে দায়ী করলেও শ্রমিক নেতাদের দাবি, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টার কারণে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা হচ্ছে কর্মীদের।

শিল্প পুলিশ এবং পোশাক খাতের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। এর বড় অংশই সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকার তৈরি পোশাক কারখানার কর্মী। বিজিএমইএর তথ্যমতে, তাদের সদস্যভুক্ত ৮০টি কারখানায় ১৯ হাজারের বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন এবং এর মধ্যে ২৭টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি গাজীপুরের ইউনিক ওয়াশিং এবং সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপে বড় ধরনের ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অনেক শ্রমিক তাদের বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না।

পোশাক খাতের মালিকদের দাবি, বিশ্ব বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা বা ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় তারা কর্মী কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন শুল্ক নীতি, ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং দেশীয় ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার কারণে কারখানাগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে। ফলে নতুন কর্মী নিয়োগও প্রায় বন্ধ রয়েছে।

তবে এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন শ্রমিক নেতারা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য উল্লেখ করে তারা বলছেন, বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি কমেছে মাত্র ৩.৪১ শতাংশ, যা খুব বড় কোনো বিপর্যয় নয়। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, সংশোধিত শ্রম আইনের পর এখন মাত্র ২০ জন শ্রমিক একত্রিত হলেই ট্রেড ইউনিয়ন করা যায়। এই অধিকার আদায়ের চেষ্টা করায় অনেক কারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারের বিশেষ প্রণোদনা সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেও কিছু সচল কারখানা বন্ধ দেখানো হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com