চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রভাবে মার্কিন পোশাক বাজারে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। অতিরিক্ত শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

এই সুযোগে চীনকে পেছনে ফেলে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাক সরবরাহে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার মাঝেও একে দেশের পোশাক খাতের একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।

ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সার)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে। ওটেক্সারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ।

তবে একই সময়ে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে চীনের। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে চীনের পোশাক রপ্তানি আয় ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। চীনের এই বড় পতনের কারণেই বাংলাদেশ তাকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মূলত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাড়তি শুল্কের কারণে মার্কিন ক্রেতারা এখন চীন ছেড়ে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে বিকল্প উৎস হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

সার্বিক রপ্তানি কিছুটা কমলেও একক মাস হিসেবে গত মে মাসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল ইতিবাচক। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৮২ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের মে মাসের (৫৪৮.৮৫ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি। এদিকে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বৈশ্বিক পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন বাজারে ৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি নিয়ে বরাবরের মতোই শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। এছাড়া কম্বোডিয়া ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ১ দশমিক tracking ৭৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিও বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিএএমইএ) পরিচালক ও কাজী প্রিন্টিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফাহাদ বলেন, চীনের রপ্তানি প্রায় ৪৩ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশের পতন হয়েছে মাত্র ৮ শতাংশের কাছাকাছি, যা আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখার তাগিদ দেন তিনি।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com