গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও জীবনযাপন উপযোগী মজুরি নির্ধারণে দ্রুত মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং, দমন-পীড়ন ও বেআইনি ছাঁটাই বন্ধ এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় পথসভা ও লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী প্রচার কর্মসূচির উদ্বোধন করে জি-স্কপ। সংগঠনটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে।
পথসভায় জি-স্কপ নেতারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বশেষ মজুরি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। শ্রম আইনের ধারা ১৩৯(৬) অনুযায়ী মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ ও দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের জীবনমান ও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ সময় জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কমিশন গঠন এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য ন্যায্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।
পথসভায় শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও ন্যায্য দাবির আন্দোলন দমনে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সাদা কাগজ ও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া, বেআইনি ছাঁটাই এবং আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের অভিযোগ তোলা হয়। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে শ্রমিকদের সংগঠন ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান জি-স্কপ নেতারা।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হলে এর সমাধানের দায়িত্ব সরকারের উল্লেখ করে তারা বলেন, এসব সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা যাবে না।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জি-স্কপের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক বাচ্চু মিয়া ও আসাদুজ্জামান চৌধুরীসহ আঞ্চলিক নেতারা। এতে সভাপতিত্ব করেন জি-স্কপ গাজীপুর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক ফারহানা আলেয়া। কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক শাজাহান সিরাজ।


