“তোমরা ছিলে আমাদের প্রথম ব্যাচ। তোমরা ছিলে আমাদের শুরু। আর আজ, তোমরা হয়ে উঠেছ আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নয়ন ঘোষের এই আবেগঘন ফেসবুক পোস্টের মধ্য দিয়েই যেন ফুটে উঠেছে গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (GTEC) প্রথম ব্যাচের পথচলার গল্প। গতকাল প্রকাশিত হয়েছে কলেজটির বি.এসসি. ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের ফাইনাল ফলাফল। এর মধ্য দিয়ে নবীন এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে যুক্ত হলো প্রথম সাফল্যের অধ্যায়।

সীমিত সম্পদ, নতুন পরিবেশ ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ব্যাচটি। তবে শিক্ষক, পরিবার ও নিজেদের পরিশ্রমে সেই পথ পেরিয়ে তারা আজ প্রতিষ্ঠানের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন।

শেষ সেমিস্টারে ৩ শিক্ষার্থীর ৪.০০

ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন—শেষ তথা অষ্টম সেমিস্টারে তিন শিক্ষার্থী পেয়েছেন ৪.০০-এর মধ্যে পূর্ণ ৪.০০ GPA। তারা হলেন—

  • আনজুমান আরা সুমি — ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং — CGPA ৩.৭২
  • নূর নাহার আক্তার সোনিয়া — ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং — CGPA ৩.৮০
  • হুর এ জামান জান্নাতী — অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং — CGPA ৩.৭১

চার বিভাগ মিলিয়ে ৯৭ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সামগ্রিক CGPA-তে ব্যাচের শীর্ষ পাঁচে রয়েছেন মো. তানভীর চৌধুরী (৩.৮৩), মো. তানভীর সরদার (৩.৮২), নূর নাহার আক্তার সোনিয়া (৩.৮০), সোনালী আক্তার (৩.৭৮) ও আনজুমান আরা সুমি (৩.৭২)।

সাফল্যের অনুভূতিতে শিক্ষার্থীরা

ব্যাচের প্রথম স্থান অর্জনকারী মো. তানভীর চৌধুরী এই অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে বলেন, তাঁর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের দোয়া, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং প্রিয়জনদের সমর্থন। তাঁর কাছে এই অর্জন কোনো সমাপ্তি নয়, বরং আরও বড় স্বপ্ন দেখার নতুন প্রেরণা।

চতুর্থ স্থান অর্জনকারী সোনালী আক্তার বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকটের মধ্যেও শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও উৎসাহ তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে। শিক্ষক, বন্ধু ও ব্যাচমেটদের ভালোবাসা ও অসংখ্য স্মৃতি সবসময় হৃদয়ে অমলিন থাকবে বলেও জানান তিনি।

পঞ্চম স্থান অর্জনকারী আনজুমান আরা সুমি বলেন, দীর্ঘ পথচলায় ছিল স্বপ্ন, পরিশ্রম, শেখা ও অসংখ্য স্মৃতি। প্রিয় ক্যাম্পাস, শিক্ষক, ব্যাচমেট, বন্ধু ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আজ একটি অধ্যায় শেষ হলো, আর শুরু হলো নতুন স্বপ্নের গল্প।”

প্রথম ব্যাচ, প্রথম ইতিহাস

প্রথম ব্যাচের এই অর্জন শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি একটি প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিনের সংগ্রাম ও স্বপ্নের প্রতিফলন। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের মতে, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসের পথিকৃৎ। তাঁদের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ ব্যাচগুলো আরও দূর এগিয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যক্ষের বার্তা—“আজ তোমরা রেজাল্ট পেয়েছ। আগামীকাল তোমরা নিজেদের গল্প লিখবে।”

টেক্সটাইল শিল্প ও এর বাইরেও সফল পেশাজীবী, দায়িত্বশীল নাগরিক ও যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে—এমন প্রত্যাশাই এখন গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ পরিবারের।

লেখা: সাকিবুল ইসলাম প্রান্ত, গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com