বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পোল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় অবস্থান বদলে আগের নিয়মেই স্বাভাবিক বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর দুই পক্ষ একটি যৌথ বিবৃতি তৈরি করেছে, যেখানে এলপিপির ব্যবসা অব্যাহত রাখার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি আরও জানান, “এলপিপি বাংলাদেশে তাদের বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখবে। পাশাপাশি রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকদের যে অর্থ বকেয়া রয়েছে, তা দ্রুত আদায়ে এলপিপি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।”
ঘটনার সূত্রপাত রাশিয়ার ‘এফইএস রিটেইল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া টাকাকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের প্রায় ৪০ জন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) ডলার পাবেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের মধ্যস্থতাতেই ওই রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছিল।
দীর্ঘদিন বকেয়া না পাওয়ায় কয়েকজন রপ্তানিকারক আইনি পদক্ষেপ নেন। এর জের ধরে এলপিপির ঢাকা অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বাসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল পোলিশ এই ফ্যাশন জায়ান্ট।
পোশাক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এলপিপির পুনরায় ফিরে আসা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর। বর্তমানে দেশের প্রায় ৭৭২টি কারখানা এলপিপিকে পোশাক সরবরাহ করে, যার বার্ষিক বাজারমূল্য ৭০ কোটি (৭০০ মিলিয়ন) ডলারেরও বেশি।

