EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে।

ধর্মঘটের প্রভাব শুধু জেটি ও ইয়ার্ডে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বন্দরের বহির্নোঙরেও পণ্য খালাস কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে বহির্নোঙরে অবস্থান করা প্রায় ৮০টি বড় জাহাজ (মাদার ভেসেল) থেকে ছোট লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থিং অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সারোয়ার সাগর জানান, আন্দোলনকারীরা সকাল থেকেই অধিকাংশ জাহাজের লোডিং ও আনলোডিং কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে যেসব জাহাজের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং যেগুলোর আজই বন্দর ত্যাগ করার কথা, এমন ১০টি জাহাজের কাজ শেষ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী জানান, ধর্মঘটের কারণে বন্দরের সবচেয়ে পুরোনো টার্মিনাল জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি) তিনটি কনটেইনার জাহাজসহ মোট সাতটি জাহাজে পণ্য ও কনটেইনার লোডিং-আনলোডিং পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও এনসিটির কিছু জেটিতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) সূত্র জানায়, রোববার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে জোয়ার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ধর্মঘটের কারণে কোনো জাহাজের চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বহির্নোঙরে জাহাজ জট আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই বন্দরের প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেটি ও ইয়ার্ড এলাকায়ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর অডিটোরিয়ামে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে প্রায় ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১০০ জন তালিকাভুক্ত বন্দর শ্রমিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনে বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে পুলিশ ইয়ার্ডে প্রবেশ করে কয়েকজন কর্মীকে জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের ওই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (পোর্ট) উপ-কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এনসিটি ইস্যুতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বন্দর থানা পুলিশ ও ডিবি বন্দর কর্তৃপক্ষের দুই কর্মচারীকে আটক করেছে। তিনি বলেন, আন্দোলনে তাদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত দুজন হলেন আবু কালাম আজাদ ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মচারী শামসু মিয়া টুকু। বন্দর কলোনির ১২ নম্বর সড়ক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com