দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতাভুক্ত করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএমইএ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক’ এক আলোচনা সভায় এ বিষযে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন এবং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

সভায় মূল বক্তব্যে ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, সংশোধিত শ্রম আইন ২০২৬ অনুযায়ী, যেসব কারখানায় ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছে, সেখানে পেনশন হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা এই স্কিমে যুক্ত হয়ে ৬০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত পেনশন পাবেন। তবে কোনো কারণে গ্রাহকের মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি লভ্যাংশসহ জমানো টাকা পাবেন। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান পোশাক খাতের জন্য দুটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি পোশাক শ্রমিকদের পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করা এবং সার্বিক অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রথম দুই বছরের জন্য সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান।

বিজিএমইএ নেতারা মনে করেন, বিশাল এই শ্রমিক গোষ্ঠীকে নিয়মতান্ত্রিক পেনশনের আওতায় আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এটি তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com