সাভারের আশুলিয়ায় কারখানার ছুটির মাঝেই ৫৬৫ জন পোশাকশ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অন্য একটি শিল্পগ্রুপের দুটি কারখানার আরও ১৪০ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আকস্মিক চাকরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কারখানাগুলোর সাধারণ শ্রমিকেরা।
অ্যালায়েন্স নিটে একযোগে সাড়ে ৫ শতাধিক ছাঁটাইশিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার ‘অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড’ মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে সম্প্রতি শ্রমিকের তালিকা যুক্ত করে ছাঁটাইয়ের নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক মন্দা, কার্যাদেশের ঘাটতি ও ব্যাংকিং সহায়তার অভাবে উৎপাদনে ধস নেমেছে। ফলে বাধ্য হয়েই বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী আগামী ৮ আগস্ট থেকে ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কারখানাটির মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মরত। কাজের সংকট থাকায় গত কয়েক মাস ধরে নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিতে হচ্ছিল। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিক কমাতে হচ্ছে। তবে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সমস্ত পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং পরবর্তীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন।
ছুটির মধ্যে হঠাৎ চাকরি হারানোর বার্তায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শ্রমিকেরা। সুইং সেকশনের শ্রমিক মো. জিয়ারুল হক জানান, ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি এসে মুঠোফোনের খুদেবার্তায় ছাঁটাইয়ের খবর পান তিনি। হঠাৎ জীবিকা হারিয়ে এখন পুরো পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
লুসাকা গ্রুপের ২ কারখানায় বরখাস্ত ১৪০অন্যদিকে, আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ‘লুসাকা গ্রুপ’-এর দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪০ জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেক নিট লিমিটেডের ৫৮ জন ও তাম্মাম ডিজাইন লিমিটেডের ৮২ জন শ্রমিক রয়েছেন। কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনের ক্ষোভ ও দাবিতৈরি পোশাক খাতের এই গণছাঁটাইয়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, কার্যাদেশ না থাকার বিষয়টি স্রেফ মালিকপক্ষের অজুহাত। ছুটির সুযোগে একযোগে শত শত শ্রমিক ছাঁটাই ও বরখাস্ত করা অন্যায়। তিনি অবিলম্বে এই ছাঁটাই নোটিশ বাতিল করে সব শ্রমিককে চাকরিতে পুনর্বহালের জোর দাবি জানান।

