বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার মন্দা এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া ও উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে না পারায় গড়ে প্রতি মাসেই বন্ধ হচ্ছে ৩ থেকে ৪টি কারখানা। ফলে গত ছয় মাসে এই খাতে ১৯ হাজারের বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

৩ বছরে কারখানা বন্ধের চিত্র

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছর দুই মাসে তৈরি পোশাক খাতে ২৫৬টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে ৩২৩টি নতুন কারখানা চালু হলেও তা সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা ফেরাতে পারছে না। বর্তমানে সংগঠনটির সচল কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১২৭টি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বড় কিছু শিল্প গ্রুপের মালিকদের আইনি জটিলতা ও ব্যাংক ঋণ সংকটের কারণেও বেশ কয়েকটি বড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যা উৎপাদন ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নেতিবাচক ধারায় রপ্তানি আয়

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতের মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের শেষ ১০ মাসের মধ্যে ৯ মাসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক।

বিশেষ করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পোশাকের চাহিদা ব্যাপক কমেছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে এই মন্দার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে।

উত্তরণের উপায় ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

অর্থনীতিবিদ ও তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশে ব্যবসার খরচ (কস্ট অব ডুইং বিজনেস) বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক খাত তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক ও স্থানীয় উভয় কারণেই রপ্তানি কমছে। ব্যবসার খরচ কমানোর পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত বন্ড সুবিধা ও দ্রুত পণ্য খালাসের মতো পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে উদ্যোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট নীতিসহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এবং কর্মসংস্থান রক্ষা করতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com