EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

লোডশেডিংয়ের সময়ে জেনারেটর চালিয়ে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে হয় দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সমস্যার কারণে প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না অনেক শিল্পমালিক। ফলে বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিল্পমালিকদের এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে বিশেষ ব্যবস্থায় জ্বালানি তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শিগগিরই এ বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিল্প অ্যাসোসিয়েশনের প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সুযোগ পাবেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় দেশে অনেক যানবাহনের চালক অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য ভিড় বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে গত ৬ মার্চ ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেয় বিপিসি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি শিল্প খাতও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহে সমস্যার মুখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত পরিমাণ তেল পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি পোশাক শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। অনেক কারখানায় জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি জানান, শিল্প খাতের জন্য বিশেষভাবে জ্বালানি বরাদ্দ এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে উৎপাদন ও বিতরণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানাকে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

কিন্তু জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে।তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিজিএমইএ থেকে কারখানাগুলোর জন্য প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হলে সেই কাগজ দেখিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়া যাবে। ইতোমধ্যে এ প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানি সংকট শুধু কারখানার ভেতরের উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

টিএডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে প্রথম কয়েক দিন তাদের কারখানাগুলোতে জেনারেটর চালানো এবং পণ্য পরিবহনে সমস্যা দেখা দেয়।

পরে অ্যাসোসিয়েশনের সার্টিফিকেট দেখিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে কারখানা থেকে গুদাম এবং গুদাম থেকে বন্দরে পণ্য পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত নৌ বা স্থল পরিবহন ব্যবস্থাও এর ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট দেখা দিলে রপ্তানি কার্যক্রমও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে জ্বালানি তেলের নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com