শিল্পে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’।

আগামী ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের প্রদর্শনীতে প্রায় ৫০টি টেক্সটাইল, পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ কারখানা এবং প্রযুক্তি ও সমাধান প্রদানকারী ২০০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এ ছাড়া পাঁচ হাজারের মতো দর্শনার্থী, ১০০টি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা এবং ৩০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা ২০০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পোশাকের মূল্য বাড়াতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে জোর

সংবাদ সম্মেলনে ইউরোস্ট্যাটের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় মূল্য প্রতি কেজিতে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ভিয়েতনামের পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এই চিত্র বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে পণ্যের মূল্য সংযোজন, উৎপাদনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। এ ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় উদ্ভাবন এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

থাকছে চারটি বিশেষ থিম জোন

এক্সপোতে ডাইং ও প্রিন্টিং, টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়াল, গার্মেন্টস অটোমেশন এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে চারটি বিশেষ থিম জোন থাকবে। পাশাপাশি ‘ফ্যাক্টরি ইনোভেশন প্যাভিলিয়ন’-এ স্থানীয় কারখানাগুলো তাদের উদ্ভাবনী পণ্য এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ তুলে ধরবে।

‘ওপেন ইনোভেশন এরিয়া’য় গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ এবং কারখানার প্রকৌশলীরা শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাঁদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত ধারণা উপস্থাপন করবেন।

এ ছাড়া টেকসই ব্যবস্থাপনা, নতুন ফাইবার, ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট, পণ্যের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থার অনুসরণযোগ্যতা (ট্রেসেবিলিটি), টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের মতো বিষয়ে ছয়টি কারিগরি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এর পাশাপাশি থাকবে একটি প্লেনারি সেমিনার।

আট বিভাগে দেওয়া হবে টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড

এক্সপোর অন্যতম আকর্ষণ ‘টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। কারখানাভিত্তিক উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, পণ্য উন্নয়ন এবং টেকসই ব্যবস্থাপনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আটটি বিভাগে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।বিভাগগুলো হলো—প্রসেস ইনোভেশন, ম্যানুফ্যাকচারিং ইনোভেশন, টেকনোলজি, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং ও মার্কেট ডেভেলপমেন্ট, পরিবেশগত টেকসই ব্যবস্থাপনা, সামাজিক টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং মানবসম্পদ ও সাংগঠনিক উন্নয়ন।

টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের (টিআইই) আয়োজনে এবং টেক্সটাইল ইনোভেশন সেন্টারের (টিআইসি) সহ-আয়োজনে এক্সপোটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে সহযোগিতা করছে ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)। অংশীদার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)। আয়োজনটি বাস্তবায়ন করছে টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব (টিটিআইএইচ)।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইটিইটি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন, বিকেএমইএর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের তুর্জো, বিজিবিএর প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ, আইটিইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সুমায়েল মুহাম্মদ মল্লিক, আইটিইটি বাংলাদেশের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার এ.এস.এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন এবং টিআইইর চেয়ারম্যান ও টিটিআইএইচের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে ২০২৬ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির টেক্সটাইল ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের উদ্বোধন করেন। গত সাত বছরে টেক্সটাইল টুডে ইনোভেশন হাব ৮০টির বেশি কারখানায় ২৭০টিরও বেশি উদ্ভাবন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com