১০ অক্টোবরের মধ্যে তৈরি পোশাক (আরএমজি) শ্রমিকদের জন্য নতুন সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকারের কাছে এ আহ্বান জানায় শ্রমিক সংগঠনটি।
রবিবার (৪ অক্টোবর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে আইবিসি এ দাবি জানায়। সংস্থাটি জানায়, দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও শ্রম আইনের বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় এনে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আইবিসি উল্লেখ করে, সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর ১৩৯(৬) ধারা অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার সময়সীমা পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা জানান, শ্রম আইনের ১৩৯(২) ধারা অনুযায়ী মজুরি বোর্ড গঠনের পর সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। সে হিসাবে আগামী নভেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই বোর্ড পুনর্গঠন করা উচিত ছিল। এতে বিলম্ব হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইবিসি নেতারা।
সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ায় নিম্নআয়ের পোশাক শ্রমিকরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। সরকারি পে-স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম গ্রেড) বেতন ২০,০১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮,৪০০ টাকা করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। সরকারি খাতের এই মূল্যসংযোজনের ফলে বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে এবং তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, আইবিসি পোশাক খাতের ১৬টিসহ মোট ১৯টি অনুমোদিত ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করে, যা দেশের মোট সংগঠিত পোশাক শ্রমিকদের প্রায় ৭০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী জোট।
এর আগে গত ৪ আগস্ট লিখিত আবেদন এবং ১৯ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছিল সংগঠনটি। পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এবার নতুন করে ১০ অক্টোবরের আলটিমেটাম দিল তারা।
স্মারকলিপি পেশের আগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আইবিসি সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ। সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুল হক আমিন, সহ-সভাপতি চায়না রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও রুহুল আমিন বক্তব্য দেন।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সরকার মজুরি বোর্ড গঠনে ব্যর্থ হলে একই দিনে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


