আমদানি বাণিজ্য সহজ ও গতিশীল করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা, বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার মতো সব নিয়মকানুন পাওয়া যাবে একটিমাত্র প্রজ্ঞাপনে। বৈচিত্র্যময় সব সার্কুলার একীভূত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সমন্বিত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
এক নীতিমালায় যেসব নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই নীতিমালায় এলসি খোলার আধুনিক পদ্ধতি, অনলাইনে আমদানির তথ্য প্রেরণ এবং বিদেশি সরবরাহকারীকে অগ্রিম অর্থ পাঠানোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পণ্য আমদানির প্রমাণ হিসেবে বিল অব এন্ট্রি জমা, বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ এবং বকেয়া মূল্য পরিশোধের বিধানও এতে রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি রফতানিকারকদের ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাগজপত্র যাচাই, বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন, রফতানি আয় দিয়ে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিশেষ বিধানগুলো এতে স্পষ্ট করা হয়েছে। এমনকি সোনা, রুপা ও বিদেশি মুদ্রার নোট আমদানির নিয়মও এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে।
আলাদা সার্কুলার খোঁজার দিন শেষ
নতুন এই নির্দেশনার ফলে ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের আর পুরোনো বা পৃথক সার্কুলার ঘেঁটে সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর আওতায় জারি করা এই বিধান প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে—এখানে নতুন কোনো জটিল নিয়ম বা বিশেষ সুযোগ যোগ করা হয়নি, বরং বিদ্যমান নিয়মগুলোকেই একত্রিত ও হালনাগাদ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের সুবিধা
সব নিয়ম এক জায়গায় পাওয়ায় কাজের জটিলতা ও সময় দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতদিন কোনো লেনদেন নিষ্পত্তিতে একাধিক সার্কুলার মেলাতে গিয়ে সময়ক্ষেপণ হতো। নতুন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল যাচাই ও বিকল্প অর্থায়নের সুবিধা থাকায় বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কার্যকর বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত করা জরুরি। কাগজপত্রের জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হলেই দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আরও সহজ হয়ে উঠবে।

