নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে তৈরি পোশাক রফতানিতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। প্রধান বাজারগুলোর কয়েকটিতে রফতানি কমলেও ইতালিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে ইতালির বাজারে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় বাজারগুলোসহ যুক্তরাজ্য ও কানাডায় রফতানি কমায় সার্বিকভাবে এই মাসে তৈরি পোশাক রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস’ সংকলিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জুলাইয়ে মোট ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। গত বছরের একই মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৯৬ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে জুনের তুলনায় জুলাইয়ে পোশাক রফতানিতে ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুনে রফতানি হয়েছিল ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ইউরোপের বাজারে মিশ্র চিত্র, ইতালিতে বড় লাফ

বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জুলাইয়ে মোট পোশাক রফতানির ৪৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ এসেছে এই অঞ্চল থেকে। তবে সামগ্রিকভাবে ইইউর বাজারে রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯২ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ডলারে।

ইইউর সবচেয়ে বড় বাজার জার্মানিতে রফতানি ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ৪৫ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারে নেমেছে। ফ্রান্সেও ৪ দশমিক ৪ ৪ শতাংশ কমে রফতানি দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯ লাখ ডলারে। তবে এর বিপরীতে ইতালিতে রফতানি ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। এছাড়া স্পেনে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৪০ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং নেদারল্যান্ডসে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২৩ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় পতন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার জুলাইয়ে স্থিতিশীল ছিল। দেশটিতে রফতানি হয়েছে ৭৯ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের চেয়ে মাত্র দশমিক ১৮ শতাংশ কম। এতে মোট রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ সামান্য বেড়ে ২০ দশমিক ৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে যুক্তরাজ্যে রফতানি ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৪৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে কানাডার বাজারে পতন আরও বেশি; দেশটিতে রফতানি ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে।

নিট ও ওভেন খাত এবং অপ্রচলিত বাজার

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নিট ও ওভেন—উভয় খাতেই আয় কমেছে। ওভেন পোশাক রফতানি ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে হয়েছে ১৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আর নিট পোশাকের রফতানি দশমিক ৯০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২১৫ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারে।অন্যদিকে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে মোট ৫৮ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দশমিক ৪৮ শতাংশ কম। এসব বাজারের মধ্যে জাপানে দশমিক ২৯ শতাংশ রফতানি বাড়লেও অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে যথাক্রমে দশমিক ৩৩ ও ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমেছে।

অভ্যন্তরীণ সংকট দূর ও বাজার বৈচিত্র্যায়ণের তাগিদ

পোশাক খাতের এমন পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “রফতানি বাড়াতে হলে আগে শিল্পের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো দূর করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ কঠিন হয়ে পড়ছে। শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং ব্যবসার খরচ কমানো না গেলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।”

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল জানান, “জুলাই মাসে জুনের তুলনায় মাসভিত্তিক ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কিছুটা কমেছে। ইউরোপের বড় বাজারে চাপ থাকলেও ইতালি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। এখন প্রচলিত বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন বাজারে রফতানি বিস্তৃত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।”

About The Author


স্বত্ব © ২০২৬ টেক্সটাইল মিরর
Email: contact@textilemirrorbd.com