EMMTEX SLN Textile Industry Advertisement Banner

শিল্পনগরী গাজীপুরে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর্থিক সংকট আর শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গত এক সপ্তাহে জেলাটিতে অন্তত ১৩টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিক হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা তাদের পরিবারগুলোকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচামালের বাড়তি দাম, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংকের উচ্চ সুদ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তৈরি পোশাক খাত চাপের মুখে ছিল। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন যোগ হওয়ায় অনেক মালিক শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধের পথ বেছে নিয়েছেন।

বোর্ডবাজার এলাকার ‘ইউনিক ডিজাইনার্স’ ও ‘ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, আর্থিক সংকটের কারণে মালিকপক্ষ এটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার বিষয়ে ১১টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় এপেক্স গ্রুপের চারটি কারখানা (এপেক্স স্পিনিং, টেক্সটাইল প্রিন্টিং, লন্ড্রি ও ইয়ার্ন ডাইং) গত ২২ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের কিছু দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাঘের বাজার এলাকায় লিথী গ্রুপের পাঁচটি কারখানা একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—অ্যাপারেল-২১ লিমিটেড, ফমকম ফ্যাশন, ফমকম ডাইং, ফমকম প্রিন্টিং এবং ফমকম নিটিং লিমিটেড। দীর্ঘদিন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকা, নতুন অর্ডারের অভাব এবং ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়ার কারণে এগুলো বন্ধ করা হয়েছে বলে নোটিশে জানানো হয়।

১ জুলাই থেকে গাজীপুর মহানগরের জরুণ এলাকার ‘ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২)’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি রুবিনা বেগম নামে এক নারী শ্রমিকের অসুস্থতাজনিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ভাঙচুরের আশঙ্কায় শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন।

এদিকে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে কড্ডা-নাওজোড় এলাকার ‘ফ্যাশন লিংকার্স’ এবং কাশিমপুরের ‘কোরটেক্স অ্যাপারেলস’ নামের আরও দুটি কারখানা বন্ধের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

গাজীপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম. এম. মামুন-অর-রশিদ জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি কাটিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই কারখানাগুলো দ্রুতই আবার উৎপাদনে ফিরবে বলে তারা আশা করছেন।

About The Author

সম্পাদক
ইঞ্জি: আতিকুর রহমান আতিক
Email: Contact@textilemirrorbd.com