তৈরি পোশাক খাতে মোট রপ্তানি আয় বাড়লেও তার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে কাঁচামাল আমদানিতে। ফলে পোশাক খাতের সামগ্রিক রপ্তানির তুলনায় অর্থনীতিতে প্রকৃত বা নিট বৈদেশিক মুদ্রার যোগান কিছুটা কম থাকছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন ২০২৬) পর্যালোচনার তথ্য অনুযায়ী, পোশাক খাতের প্রতি ১০০ ডলার রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিতে প্রায় ৩৮ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অর্থাৎ আমদানির পর দেশে থাকছে প্রায় ৬২ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশ থেকে মোট এক হাজার ১০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। একই সময়ে কাঁচা তুলা, সুতা, সিনথেটিক ও ভিসকস ফাইবার, কাপড় এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক পণ্য আমদানিতে খরচ হয়েছে ৩৮৭ কোটি ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের ৩৮.৩২ শতাংশ। ফলে এই তিন মাসে নিট বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে ৬২৩ কোটি ডলার। অবশ্য এ নিট আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১০.৩৮ শতাংশ এবং আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০.৩৪ শতাংশ বেশি।
বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক খাত থেকে মোট আয় এসেছে তিন হাজার ৮৯৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ০.৯৬ শতাংশ বেশি। বর্তমানে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। তবে নিট পোশাকে স্থানীয় কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহার করা সম্ভব হলেও ওভেন পোশাকে দেশীয় সক্ষমতা মাত্র ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে ওভেন ও ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকে এখনো আমদানিনির্ভরতা বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রায় ৭২ শতাংশ আসে নয়টি বড় বাজার (যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা ও বেলজিয়াম) থেকে। এপ্রিল-জুন সময়ে এসব দেশে মোট ৭২৪ কোটি ডলারের পোশাক গেছে, যার মধ্যে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে ২১৫ কোটি ডলার।
শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা সংযোগ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে কারখানাগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দক্ষ শ্রমিকের নিশ্চিতকরণই পারবে পোশাকের স্থানীয় মূল্যসংযোজন বৃদ্ধি করতে।

